২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে হয়রানি ও চরিত্র হনন গ্রহণযোগ্য নয়: আইসিটি মন্ত্রী

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে হয়রানি ও চরিত্র হনন গ্রহণযোগ্য নয়: আইসিটি মন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 04:22 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মানহানিকর ও চরিত্রহননমূলক’ কনটেন্ট ছড়িয়ে ব্যক্তিগত হয়রানির অভিযোগ যে বাড়ছে, সে কথা তুলে ধরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন ও অনলাইন হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস) এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম (এনআরসিএস)-এর উদ্বোধন করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী উপস্থিত ছিলেন। 

আইসিটি মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট নিয়ে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে। এ ধরনের কনটেন্ট অনেক তরুণ-তরুণীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। কেউ কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি। 

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে নীতিগত আলোচনা চলছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের কার্যকর উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে সরকার।

তিনি বলেন, সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেমে অভিযোগ জানানো হলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে অনেক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম সংরক্ষিত অবস্থান নেয়। ফলে এ বিষয়ে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক বিষয় না হলেও দুটি পরস্পর-সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, দেশে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য, ট্রলিং, ব্যক্তিগত হয়রানি ও মানহানি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। 

“এসব মোকাবিলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; সামাজিক, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। কেবল অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করলেই এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, নতুন সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম দেশের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্ভাব্য সাইবার হুমকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দিতেও এটি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্বের সব সরকারের জন্যই একটি জটিল নীতিগত বিষয়। 

“সবাই স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও এর সীমারেখা কোথায় হবে, সে বিষয়ে এখনো বৈশ্বিক ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। তাই স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”