১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এপিবিএনকে তদন্তের ক্ষমতা দিতে সংসদে বিল

পুলিশের এই বিশেষায়িত বাহিনীকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন আইনে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 09:15 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বা এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিতে জাতীয় সংসদে বিল উঠেছে।

পুলিশের এই বিশেষায়িত বাহিনীকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন আইনে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন।

পরে বিলটি দুই কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইন পাস হলে ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স বাতিল হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালের আইনটি ইংরেজিতে ছিল। সেটিকে বাংলায় এনে ‘যুগোপযোগী’ করতেই নতুন আইন আনা হয়েছে।

বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর সময় দুই কার্যদিবসের সময়সীমা নিয়ে আপত্তি জানান পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, বড় ও জটিল আইন পরীক্ষা করতে সংসদীয় কমিটিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।

প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং এ আইনের কারণে যাদের ওপর প্রভাব পড়বে, তাদের সঙ্গেও কমিটির আলোচনা করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

নাজিবুর রহমান বলেন, সময় বেঁধে দিলে কমিটির ‘সকল কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ’ এবং প্রয়োজন হলে অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

তিনি বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোরও প্রস্তাব দেন।

তার যুক্তি ছিল, বিষয়টি মূলত আইন সংক্রান্ত এবং ওই কমিটিতে বেশি আইন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রণালয়ের বিল সেই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেই পরীক্ষা করা হয়।

তিনি জানান, বর্তমান অধিবেশনের সময়সীমার কারণেই দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন বলেন, কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধিবেশন ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা। ফলে বিলগুলো পরীক্ষা করে আবার সংসদে আনার জন্য সময় সীমিত।

তবে সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষা শেষে বিল নিয়ে আবারও আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব-এসআরবি আইনের সঙ্গে সম্পর্ক

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি গঠনের বিলও এদিন জাতীয় সংসদে তোলা হয়।

এপিবিএন বিল এবং এসআরবি গঠনের বিল একই দিনে আনার কারণও সংসদে ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০০৩ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স সংশোধনের মাধ্যমে র‌্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। র‌্যাবের জন্য আলাদা কোনো মূল আইন করা হয়নি।

এখন র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন করার পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের আইনে র‌্যাব সংক্রান্ত বিধান রেখে দিলে আইনি দ্বৈততা তৈরি হবে বলে তিনি যুক্তি দেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এমেন্ডমেন্ট হবে। তারপরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের স্থলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নটা হবে।”

তিনি বলেন, এ কারণেই এপিবিএন ও এসআরবি সংক্রান্ত দুটি বিল একই সঙ্গে আনা হয়েছে।

এপিবিএন পাবে তদন্তের ক্ষমতা

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে পুলিশ বাহিনীর অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর আওতায় স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্য ব্যাটালিয়ন থাকবে।

বিলে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্য আইন অনুসরণ করে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবে এ বাহিনী।

অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এপিবিএন সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়েও বিলে বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সদস্য সাধারণভাবে কোনো সংগঠনের সদস্য হতে বা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

তবে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো বা বাহিনীর স্বার্থে কোনো পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না।

অন্য কাউকে তা প্রকাশে সহযোগিতাও করতে পারবেন না।

কেন নতুন আইন

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও জননিরাপত্তার চাহিদা এবং অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি বদলেছে।

“এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, কার্যাবলি, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিধান আরও স্পষ্ট ও কার্যকর করা প্রয়োজন।”

এই লক্ষ্যেই ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন’ করার প্রস্তাব আনার কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে।