মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিএস পদে বিচারক: বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ
ওই তিনজনকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের আরজি জানানো হয়েছে রিট আবেদনে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট আবেদন হাই কোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর অবকাশকালীন বেঞ্চ রিটটি কার্যতালিকা (কজলিস্ট) থেকে বাদ দেওয়ার আদেশ দেন।
এদিন আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ২০৬ নম্বর ক্রমিকে ছিল।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, মো. ইমরান মিয়া ও মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিচারকদের পদায়নের প্রজ্ঞাপনগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএ) কমিটি। এই বেঞ্চের একজন বিচারপতি ওই জিএ কমিটির সদস্য হওয়ায় রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (ডিলিট) দেওয়া হয়েছে।”
অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর হাই কোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য তোলার কথা বলেন এ আইনজীবী।
বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২১ সেপ্টেম্বর এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন।
রিটে জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির বরাত দিয়ে বলা হয়, তফসিলে থাকা পদগুলোকে সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিন বিচারককে নির্বাহী বিভাগের যে পদ দেওয়া হয়েছে, তা ওই বিধিমালার তফসিলে নেই।
যাদের পদায়ন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কামরুল হাসানকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এরপর ৯ মার্চ যুগ্ম জেলা জজ জি এম ফারহান ইসতিয়াককে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পিএস এবং ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
রিট আবেদনে এসব প্রজ্ঞাপনকে আইনগত ‘কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণার পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদের বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে ওই তিন বিচারককে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের আরজি জানানো হয়েছে।
