১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশও মনে রাখেনি, ফের ‘দীপ্ত শপথ’ বানিয়ে দিতে চায় ছাত্ররা

শাহরিয়ার বলেন, “দুঃখজনক যে প্রতিবছর পুলিশের পক্ষ থেকে কর্মসূচি থাকলেও এবার তা গ্রহণ করেনি।”

পুলিশও মনে রাখেনি, ফের ‘দীপ্ত শপথ’ বানিয়ে দিতে চায় ছাত্ররা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইব্রাহিমের উদ্যোগে একদল শিক্ষার্থী বুধবার গুলশান থানায় গিয়ে হোলি আর্টিজান হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jul 2025, 10:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:18 PM

পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না থাকলেও নয় বছর আগে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে স্মরণ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ভেঙে ফেলা ভাস্কর্য পুনঃনির্মানের প্রস্তাবও পুলিশকে দিয়েছে।

বুধবার বিকালে গুলশান থানায় ভেঙে ফেলা ভাস্কর্যের পাদদেশে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশপাশি ভেঙে ফেলার নিন্দা জানিয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় বাংলাদেশেরই পাঁচ তরুণ। ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে তারা হত্যা করে তারা। 

তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম এবং বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন।

ওই ঘটনার পর গুলশান থানায় দুই কর্মকর্তার স্মরণে ‘দীপ্ত শপথ’ নামে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর সেখানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাতেন ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তারা।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের অধিকাংশ থানায় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার খবর আসতে থাকে। এর মধ্যে গুলশান থানার ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পোস্টার লাগানো হয়।

হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় জিম্মি করা মানুষদের উদ্ধারে গিয়ে প্রাণ হারানো দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছিল। ২০২৪ এর অগাস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

কখন বা কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিয়ে গত বছরের অগাস্টের অস্থির সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে কেউ বক্তব্য দেয়নি। ভেঙে ফেলা ভাস্কর্য সংস্কারের কোনো উদ্যোগ এ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এবার হোলি আর্টিজানে হামলার নবম বর্ষপূর্তির দিনে গুলশান থানায় শ্রদ্ধা জানানোর কোনো আয়োজনও রাখা হয়নি। 

এ অবস্থায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইব্রাহিমের উদ্যোগে একদল সাধারণ শিক্ষার্থী বুধবার সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম উচ্চারণ করে তারা ‘লও লও লও সালাম’ স্লোগান দেন।

পরে শাহরিয়ার বলেন, “দুঃখজনক যে প্রতিবছর পুলিশের পক্ষ থেকে কর্মসূচি থাকলেও এবার তা গ্রহণ করেনি।”

‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলায় হিযবুত তাহরীরকে দোষারোপ করার পাশাপাশি পোস্টার লাগানোর নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “এরপর প্রায় এক বছর কেটে গেলেও এটা পুনরায় স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদি পুলিশ অনুমতি দেয় আমরাই এটা পুনঃস্থাপন করব।”

শাহরিয়া ইব্রিহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা গুলশান থানার ওসি সঙ্গে দেখা করেন এবং ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব দেন। ওসি ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশপাশি তারা এখানে এসে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার এবং ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার প্রতিবাদ করেন। পরে আমার সাথে দেখা করে এবং এটি পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব দেন।”