১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশ, প্রশাসন ও বিচার পরিচালনা ‘কঠিন হয়ে পড়েছে’: আইন উপদেষ্টা

“এ প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় অগ্রসরমান অবস্থায় থাকলেও গত দেড় দশকে তাদের ভিত দুর্বল করা হয়েছে”, বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2025, 07:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:22 PM

আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে ‘ভিত দুর্বল হয়ে পড়ায়’ পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা ‘কঠিন হয়ে পড়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

তিনি বলেছেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক অর্জন থাকলেও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় অগ্রসরমান অবস্থায় থাকলেও গত দেড় দশকে তাদের ভিত দুর্বল করা হয়েছে। ফলে সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

ঢাকার পূর্বাচলে রোববার স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) সপ্তম সমাবর্তনে অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি আইন উপদেষ্টার বক্তব্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আসিফ নজরুল বলেন, “দেশ গঠনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে। যেসব দেশ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পেরেছে, তারাই এগিয়ে গেছে।

“কিন্তু আমাদের দেশে ব্যক্তি ও পরিবার প্রাধান্য পেয়েছে, প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে অর্জন থাকলেও তা টেকসই হয়নি।”

তিনি বলেন, “বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। দক্ষতাকে লক্ষ্য নয়, অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সততাকে নীতি নয়, পরিচয় বানাতে হবে এবং দেশপ্রেমকে আবেগ নয়, আচরণে রূপ দিতে হবে।”

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন আইন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “আমি কখনো এত বড় জানাজা দেখিনি। মানুষের যে আহাজারি ও দোয়া প্রত্যক্ষ করেছি, তাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস— আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন। আমি বিশ্বাস করি, হাদি এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে আরও উত্তম এক স্থানে অবস্থান করছেন।

“হাদির জন্য এত মানুষের শোকের কারণ হল তিনি কখনো নিজের কথা ভাবতেন না। ভাবতেন ইনসাফ প্রতিষ্ঠার কথা। তিনি সৎ জীবনযাপন করতেন, সবাইকে ভালোবাসতেন। কর্মীদের জন্য তিনি যা করে গেছেন, তা অনেক নেতার জন্যই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ।

এসইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এ এম শামীম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো. মাহবুবুর রহমান, উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নওজিয়া ইয়াসমীন ও বিভিন্ন অনুষদ ডিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এবারের সমাবর্তনে এসইউবির ১০টি বিভাগের মোট ৬৭২ জনকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনজন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল, চারজন শিক্ষার্থীকে ভাইস-চ্যান্সেলর সিলভার মেডেল এবং ২০ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।