২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রী হত্যার ‘তদন্তে প্রভাব ফেলতে বাংলাদেশে ঘুষ’, অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী গ্রেপ্তার

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে লাশ পাওয়া যায় রেহানা পারভিনের।

স্ত্রী হত্যার ‘তদন্তে প্রভাব ফেলতে বাংলাদেশে ঘুষ’, অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী গ্রেপ্তার

রেহানা পারভিন ও আওলাদ হোসাইন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 07:01 PM

Updated : 23 Sep 2026, 07:01 PM

স্ত্রী খুনের তদন্ত প্রভাবিত করতে বাংলাদেশে ঘুষ পাঠানোর অভিযোগে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ।

দেশটির কুইন্সল্যান্ডে বসবাসরত ওই ব্যক্তির নাম আওলাদ হোসাইন (৫১)। আর হত্যার শিকার হওয়া নারীর নাম রেহানা পারভিন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে তার লাশ পাওয়া যায়।

আওলাদ ও রেহনা— দুজনের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানায়।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) অভিযোগ, রেহানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রভাব ফেলতে ঘুষ হিসেবে ৯০ হাজারের বেশি অস্ট্রেলীয় ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন আওলাদ।

এ অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ লিখেছে, রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি পুলিশ আওলাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তবে বাংলাদেশ কিংবা অস্ট্রেলিয়া— কোনো দেশেই এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়নি।

আওলাদ হোসাইন বর্তমানে ব্রিসবেন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

রেহানা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি তদন্ত চলছে। একটি করছে এএফপি, আরেকটি বাংলাদেশের পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জয় বলেন, বাংলাদেশে চলমান তদন্তে প্রভাব ফেলতে আওলাদ তার পরিচিত কয়েকজনকে একাধিক কিস্তিতে ৯০ হাজারের বেশি অস্ট্রেলীয় ডলার পাঠিয়েছেন।

“এই অর্থের একটা অংশ বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অর্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে বা তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে— এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশি পুলিশের কাছ থেকে আমরা যে সহযোগিতা পাচ্ছি, তার মাত্রায় কোনো পরিবর্তন আমরা দেখিনি।

“বাংলাদেশের কাছ থেকে যে চমৎকার সহযোগিতা পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।”

মঙ্গলবার এএফপির কর্মকর্তারা আওলাদকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইন্সে দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করেন তারা।

তদন্তকারীরা সিডনি ও ব্রিসবেনের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও খোঁজ নেন। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ স্থানান্তরসংক্রান্ত নথি জব্দ করা হয়।

ব্যক্তিগত সুবিধা পেতে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে এই প্রথম কোনো মামলা আদালতে তুলল এএফপি।

বাংলাদেশি পুলিশের একজন মুখপাত্রের বরাতে এবিসি নিউজ লিখেছে, আওলাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত নন। তবে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ওই মুখপাত্র বলেন, “শুরু থেকেই তারা আমাদের সহযোগিতা করে আসছেন, যা মামলাটির তদন্ত এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।”