Published : 25 Aug 2025, 06:31 PM
জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে আদালতে তোলার সময় হট্টগোল হয়েছে।
সোমবার দুপুরে তাকে এজলাসে তোলার আগে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়ান পুলিশ সদস্যরা।
রোববার রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। তিনি হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরা ছিলেন।
আদালতে তোলার সময় তৌহিদ আফ্রিদিকে ভিডিও করতে, তার ছবি নিতে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তাদের সামলাতে বেগ পেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। এক পর্যায়ে সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়ান পুলিশ সদস্যরা।
তৌহিদ আফ্রিদিকে সিঁড়ি দিয়ে সিএমএম আদালতের ৭ তলায় নেওয়া হয়। নেওয়ার পথে ভিড়ের মধ্যে তিনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ সদস্যরা তার হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া খুলে ফেলেন। পরে তাকে পুলিশ সদস্যরা ধরে ধরে আদালতে তোলেন।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে নিয়ে এজলাসে পৌঁছায় পুলিশ। আগে থেকেই ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে শুনানি চলছিল।
আসামির কাঠগড়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ান তৌহিদ আফ্রিদি। এসময় এজলাসে হট্টগোল শুরু হয়। হট্টগোলের মধ্যেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। আদালত
আসামি পক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন তৌহিদ আফ্রিদি। আন্দোলনের সময় ছাত্রদের পক্ষে তার একাধিক পোস্ট আছে।
এসময় এজলাসে ফের হট্টগোল শুরু হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীর ছবি দেখিয়ে বলেন, আসামির আলাদা রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। তার বাবা ব্যবসায়ী। কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি নেই। আফ্রিদির কিডনিতে জটিলতা আছে জানিয়ে তাকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা চান।
এরপর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
শুনানি শেষে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে তৌহিদ আফ্রিদিকে পেটে হাত দিয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরের ৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ অগাস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আসামির তালিকায় নাসির উদ্দিন ও তৌহিদ আফ্রিদির নামও রয়েছে।
রোববার গুলশান থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।