Published : 13 May 2025, 10:01 PM
সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ‘পথরেখা’ নির্দেশ করবে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কার্টার সেন্টারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী বৈঠকের তথ্য দিয়ে বলেছেন, সেখানে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কার সংক্রান্ত পাঁচটি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট মতামত জানতে ইতোমধ্যে সুপারিশমালা স্প্রেডশিট আকারে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কমিশন মতামত পেয়েছে এবং তার ভিত্তিতে কমিশন ৩২টি দলের সাথে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিগগিরই প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু করবে কমিশন।
“সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করতে চায় কমিশন, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথরেখা নির্দেশ করবে। একটি গণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে এই জাতীয় সনদ ভূমিকা রাখবে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত রাখার নিশ্চয়তা দিবে।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, কার্টার সেন্টারের ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর জোনাথন স্টোনস্ট্রিট, সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সাইরাহ জাহেদি ও লোক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বিশেষজ্ঞ কাজী শহীদুল ইসলাম।
পাঁচটি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের ওপর ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মতামত জানতে চেয়েছিল ঐকমত্য কমিশন। এরপর সেই মতামত ধরে সংশ্লিষ্ট দলের সঙ্গে সংলাপ করছে কমিশন।
কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন- জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।