গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহত: সেই কিশোরের জামিন বিষয়ে আরও শুনানি হবে
বাদীপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে দাবি করে আইনজীবীরা ওই কিশোরের জামিনের আবেদন করেন।
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম নিহতের মামলার আসামি ১৭ বছর বয়সি কিশোরের জামিনের বিষয়ে আবার শুনানি হবে।
ঢাকার শিশু আদালত-৮ এর বিচারক আব্দুল মোক্তাদির আদালতে রোববার ওই কিশোরের জামিন বিষয়ে শুনানি হয়। তবে আদালত অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে বলে তথ্য দিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুল ইসলাম।
রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে মঙ্গলবার বিকালে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপা দেয় ২৪ বছর বয়সি মেহেদী হাসান মিমকে। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
গাড়িচাপার ঘটনায় মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় ওই কিশোরের পরিবারের নিয়মিত গাড়িচালক আকাশ মারককে আসামি করা হয়। কিন্তু সেখানে চালকের আসনে থাকা সেই কিশোরের নাম ছিল না।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর বুধবার ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরেফীন ইসলাম।
ওইদিন আদালত সেই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে সেই কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন মামলাটি ৯ লাখ টাকায় আপোসের কথা সাংবাদিকদের বলেন।
তিনি কিশোরের জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত না শুনে জামিন শুনানির দিন রাখেন রোববার।
এ দিন জামিন শুনানিতে ওই কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান, আলমগীর হোসেনসহ একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।
অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান শুনানিতে বলেন, “মামলার বিষয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। ওই কিশোরের নাম মামলায় এজাহারে নেই। বাদীর সঙ্গে আপসনামা আদালতে জমা দিচ্ছি না। আমরা ওই কিশোরের পক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দিয়েছি। ওই ব্যক্তি (মেহেদী হাসান) শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। হর্ন দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি শোনেননি। এ জন্য এই ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে। কিশোর বিবেচনায় তার জামিনের প্রার্থনা করছি।”
বিচারক এ সময় বলেন, “আপনারা (আইনজীবী) কী দেখেছেন, এই মামলায় কী পরিমাণ মিডিয়া কাভারেজ হয়েছে। মামলার ধারা, জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য কোনোটিই নয়। এই মামলা জামিন অযোগ্য।”
আইনজীবীরা তখন বলেন, “কিশোর বিবেচনায় জামিন দিতে পারেন। আমরা তো আপস-মীমাংসা করেছি।”
জবাবে বিচারক বলেন, “আমি আইনের কথা বলব, নাকি আমার কথা বলব। আপনারা জামিন শুনানি করেন, নথি দেখে আদেশ দেব বা পরে আদেশ দিতে পারি। এই বিষয়ে আজকে আদেশ নাও হতে পারে।”
তখন আইনজীবীরা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে উপস্থিত আছে। জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
জবাবে আদালতে নিহতের পরিবারের কে কে উপস্থিত আছে জানতে চান।
বিচারক বলেন, “ঘটনাটি কিন্তু অনেক গুরুতর। সমাজ একটি ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। যদিও এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান নেই। তবু ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে। শুধু অর্থদণ্ডের বিধান থাকলে এতক্ষণে হয়ে যেত। আপনাদের (আইনজীবীরা) এতক্ষণ বসে থাকতে হত না। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে মিডিয়া কাভারেজ হয়েছে। আমাদের সব দিক দিয়ে বিবেচনা করতে হয়।”
এরপর আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খানের পরামর্শে আদালত আগামী ৪ অক্টোবর অধিকতর জামিন শুনানির দিন রাখেন।
