গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু: সেই কিশোরকে জামিন দেয়নি আদালত
বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপা দেয় ২৪ বছর বয়সি মেহেদী হাসান মিমকে।
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের নিহতের মামলায় ১৭ বছরের সেই কিশোরের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
ঢাকার শিশু আদালত -৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির আদালত বুধবার শুনানি নিয়ে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন (মামুন) এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'শিশু হিসেবে এবং বাদীপক্ষের সাথে আপস হয়েছে জানিয়ে জামিন আবেদন করেন তারা। বাদীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করি। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছেন।”
ওই কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম জামিন চেয়ে শুনানি করেছিলেন।
এরআগে ৪ অক্টোবরও ওই কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করে দেয় একই আদালত।
গেল ২২ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপা দেয় ২৪ বছর বয়সি মেহেদী হাসান মিমকে। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ি চালক আকাশ মারককে আসামি করা হলেও চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরের নাম ছিল না।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরকে হেফাজতে নেয় গুলশান থানা পুলিশ। ২৪ তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরেফীন ইসলাম।
ওইদিন আদালত তাকে ওই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। ওইদিন কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মামলাটি ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে।
