Published : 19 Sep 2025, 05:39 PM
কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে ‘নেতৃত্ব দেওয়া ও হাতবোমা ফাটানোর’ অভিযোগে করা মামলায় তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক এস এম আশরাফুল আলম আসকরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
৬০ বছর বয়সী অধ্যাপক আসকর তেজগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক।
গেল ৭ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবন এলাকায় আওয়ামী লীগ ঝটিকা মিছিল করে। এ ঘটনায় হাতবোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন এসআই এ কে এম নিয়াজউদ্দিন মোল্লা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার দিকে ফার্মগেট এলাকা থেকে আসকরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম।
আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে ‘যথেষ্ট প্রমাণ’ পাওয়া যাচ্ছে। এ আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের মাধ্যমে ঢাকা শহরে ঝটিকা মিছিলের ‘নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং মিছিল আয়োজনের অর্থ যোগানদাতা’ বলেও তদন্তে জানা গেছে।
তার কাছ থেকে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে। জামিনে মুক্তি পেলে আসামি পালিয়ে যেতে পারেন।
আওয়ামী লীগ নেতা আসকরের জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী ঈসমাইল হোসেন পাটোয়ারী।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার জামিনের বিরোধিতা করেন।
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়ার ২/এ পার্ক টাউন রেস্টুরেন্টের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানারসহ মিছিল করেন।
এক পর্যায়ে রাষ্ট্রকে ‘অস্থিতিশীল’ এবং জনমনে ‘আতঙ্ক’ সৃষ্টির জন্য পর পর দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান তারা। পরে ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে, বাকিরা পালিয়ে যান।
পুরনো খবর: