১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জুলাই অভ্যুত্থান: গাড়ি ভাঙচুর-পোড়ানোর মামলায় বিএমইউর চিকিৎসক গ্রেপ্তার

জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Nov 2025, 06:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:08 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর মামলায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজের কর্মস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর।

এদিন এই চিকিৎসক কর্মস্থলে গেলে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগকে অর্থায়নের অভিযোগে অন্য চিকিৎসকরা তাকে ঘিরে ধরেন।

পরে পুলিশ গিয়ে ডা. টিটুকে থানায় নিয়ে যায় তুলে ধরে ওসি বলেন, “আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গাড়ি পোড়ানো মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা পাই। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সমর্থিত শিক্ষক ও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ে করে বিএমইউ প্রশাসন।

ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হল সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটুকে।

মামলার এজাহারে গেল বছরের ৪ অগাস্ট শাহবাগ মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা কর্মসূচি পালনকালে তাদের ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থিত তৎকালীন বিএসএমএমইউ থেকে হামলার অভিযোগ আনা হয়।

সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত স্বাচিপসহ তৎকালীন ফ্যাসিবাদী ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ’ শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বৈষম্যবিরোধীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

প্রশাসনিক ভবনের ভেতর ও ছাদের উপর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারী মিলে ‘বৃষ্টির মতো’ ইট পাটকেল ও ভারী বস্তু নিক্ষেপ করতে থাকেন। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে অনেক আন্দোলনকারী মারাত্মক আহত হন, যা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাখা হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলেও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপককে এদিন আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাইনুল ইসলাম খান পুলক চিকিৎসক টিটুকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। 

তার পক্ষে আইনজীবী সোহাগ মিয়া জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।