১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় নৌকা ও স্পিডবোট থেকে যাত্রী লঞ্চে উঠতে পারবে না: নৌপরিবহন মন্ত্রী

নৌ দুর্ঘটনা রোধে ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় চালকদের যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ওঠানোর নির্দেশনা, ফেরি পল্টুনের নিরাপত্তা বেষ্টনী উঁচু ও মজবুত করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন শেখ রবিউল আলম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 May 2026, 02:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আসন্ন ঈদযাত্রার পথে কোনো যাত্রী নৌকা ও স্পিডবোট ব্যবহার করে নদীর মাঝ থেকে লঞ্চে উঠতে পারবেন না।

সোমবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ঈদে দুটো ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ নৌ দুর্ঘটনার কথা মন্ত্রী সভায় বলেন। তিনি বলেন, ওই দুই ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

“এর মধ্যে সদরঘাট এলাকায় কোনো যাত্রী নৌকা ও স্পিডবোট থেকে লঞ্চে উঠতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে যাত্রীরা নৌকা বা স্পিডবোট ব্যবহার করে টার্মিনাল পন্টুনের মাধ্যমে লঞ্চে উঠতে পারবে।” 

মন্ত্রী বলেন, আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেক ত্রুটির বিষয় উঠে এসেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে।

“এছাড়া নৌ দুর্ঘটনা রোধকল্পে ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় চালকদের যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ওঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ফেরি পন্টুনের নিরাপত্তা বেষ্টনী উঁচু ও মজবুত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” 

তিনি বলেন, "দেড় কোটির বেশি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।"

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আরো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঈদুল আজহার আগের পাঁচ দিন এবং পরের পাঁচ দিন (২৩ মে থেকে ২ জুন) দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

সদরঘাটে যাত্রীর চাপ কমানো এবং স্বস্তিদায়ক ও সহজ নৌযাত্রা নিশ্চিতের জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ঘাট থেকে এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত থাকবে বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা। 

ঈদের আগের তিন দিন এবং পরের তিন দিন (২৫ থেকে ৩১ মে) পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। 

সদরঘাটে যাত্রীদের মালপত্র বহনের জন্য নিয়মিত ট্রলি সেবা, অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের জন্য হইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে। 

কোরবানির পশু বহনকারী নৌযানকে ঘাটে ভিড়ানোর জন্য কোনো ঘাটের ইজারাদার বা তার লোক কর্তৃক টানাটানি করা যাবে না। এ জন্য পশুবাহী সব নৌযান কোন ঘাটে পশু আনলোড (নামানো) করবে, তা লিখে নৌযানে দৃশ্যমানভাবে ব্যানার টাঙিয়ে রাখতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই লঞ্চ বা নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা যাবে না। 

রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জিয়াউল হক সভায় উপস্থিত ছিলেন।