Published : 11 May 2026, 05:55 PM
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় পরদিন পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এরপর হত্যাসহ কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। কয়েকদফা রিমান্ড শেষে ৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়
এদিকে গ্রেপ্তার দুই দিন পর ২৫ মার্চ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল হাদী। কয়েকদফা শুনানি পিছিয়ে তা রাখা হয় সোমবার।
এদি শুনানিকালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ২৮ অগাস্ট বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন সিআইডি পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান।মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকার নির্ধারিত ফি ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার প্রতিষ্ঠান ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেন দেড় লাখ টাকা করে। এর বাইরে পাসপোর্ট খরচ, কভিড টেস্ট, মেডিকেল ও পোশাক ফি মিলিয়ে আরও সাড়ে ৩৬ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে একেকজনকে। এ হিসাবে ৯ হাজার ৩৭২ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ লাখ ৭ হাজার ৫১০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করছেন।
“এ হিসাবে তিনি নিয়েছেন মোট ১০০ কোটি ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাসুদ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান ফাইভ এমের মাধ্যমে। তিনি ওই এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।”