Published : 23 Aug 2026, 03:53 PM
ঢাকায় কয়েকটি দূতাবাসে চাঁদা চেয়ে হুমকির ঘটনায় নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, “আমরা কাজ করতেছি এটা নিয়ে দেখা যাক…আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করেছি, যেকোনো ঘটনা ঘটলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। আমরা আশাবাদী, এটাও আমরা উদ্ঘাটন করব; এর নেপথ্যে যারা আছে, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চাঁদা দাবির পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের বিষয় জানাতে এদিন সংবাদ সম্মেলনে আসেন অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল।
চিকিৎসকের কাছে এবং ঢাকায় বিভিন্ন দূতাবাসে চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া পক্ষ একই কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “দুটো ভিন্ন গ্রুপ।”
দূতাবাসে হুমকি প্রসঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, “মেইল করে তারা যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, সেই বিকাশ নম্বরের প্রায় ৩-৪ জনকে আমরা নিয়ে এসেছিলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
“আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, তারা কিছুই জানে না। মেইল করে যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, তারা নিরীহ লোক; কিছুই জানে না।”
ইতোমধ্যে ৩-৪টি দূতাবাস এবং কয়েকটা সরকারি দপ্তর এ ধরনের হুমকি পেয়েছে জানিয়ে ডিএমপির ডিবি প্রধান বলেন, “এটা শত্রুতাবশত, পাশাপাশি দেশের ইমেজ নষ্ট করার জন্য।
“রাষ্ট্রদূতরা যারা আছেন, তাদেরকে আসলে ভীতসন্ত্রস্থ করার জন্য। এটা বলব যে, দেশবিরোধী একটা অপতৎপরতা।”
চিকিৎসক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)। এর মধ্যে সানিকে এ চক্রের ‘হোতা’ বলছে পুলিশ।
গেল ১৭ অগাস্ট ঢাকার শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ওঠার পর রাত ১১টার দিকে হামলার শিকার হন ৫৫ বছর বয়সি চিকিৎসক আসাদুর রহমান।
তার মাথায়, মুখে, চোখে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার সময়ই খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে জীবন ওরফে আদিল নামে একজনকে আটক করে।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক আসাদুরের করা পল্টন থানার মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে তার কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপুর থেকে ইভান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে জীবন ও ইভান গ্রেপ্তার হয়ে জেলে রয়েছে।
সবশেষ শনিবার যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া থেকে সানি সাহাকে এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে লাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “ইভানকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, তারা একটি গ্রুপ আছে। যে গ্রুপ দেশের বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং পেশাগত বড় বড় ব্যক্তি আছে, তাদেরকে টার্গেট করে ঠিকানা জোগাড় করে মোটা অংকের টাকা দাবি করে।
“ইভানের দেওয়া তথ্যে সানি এবং লাবিবকে গ্রেপ্তার করি। এই সানি হচ্ছে চক্রের মূল হোতা।”
একইভাবে এ চক্রটি গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডি ৪ নম্বর সড়কে গাড়ি থামিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হককে হুমকি দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি হয়েছিল।
সানির বিষয়ে ডিবি প্রধান শফিকুল বলেন, “সে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত লেবার ভিসায় সিঙ্গাপুরে ছিল। সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
“সেই সখ্যতা ধরে তারা হুন্ডি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং হুন্ডি ব্যবসায় সানি বিভিন্নভাবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মত প্রতারিত হয় ওই পার্টনারের মাধ্যমে।”
এরপর হতাশাগ্রস্ত সানি দেশে ফিরে বসুন্ধরা এলাকায় থাকা শুরু করেন এবং ওই ব্যক্তিকে খুঁজতে থাকে। সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় সূত্রে ‘লস কাভারের জন্য’ এ গ্রুপ করে সানি।
গ্রুপ করে এখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে নাম-ঠিকানা, তাদের গাড়ি নম্বর, তাদের ফ্যামিলি বায়োডাটা সংগ্রহ করে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা এবং চাঁদা দাবি করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “এভাবে তারা সাতজনের একটা গ্রুপ তৈরি করে এবং এই গ্রুপের শিকার হচ্ছে আমাদের দুজন ডাক্তার। আমরা এই গতকাল সানি এবং লাবিবকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ভয়ভীতির প্রদর্শনের জন্য একটা ছুরি এবং একটা তরবারি উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা করা হয়েছে।”
শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই গ্রুপের সঙ্গে অন্য আরো তিন থেকে চারজন জড়িত আছে। তারাও আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে আছে। আমরা অচিরেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”
এর আগে চক্রটি দুয়েকটা ‘ছোট কাজ সফলভাবে করেছে’ মন্তব্য করে ডিএমপির ডিবি প্রধান বলেন, “সেসব ঘটনায় তারা ডলার না, টাকাই নিয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো থানায় এখনো মামলা পাওয়া যায়নি।”