০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থ আত্মসাতের মামলা: সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে আরো ৩ জনের সাক্ষ্য

মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৯৬ সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জন সাক্ষ্য দিলেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2026, 06:24 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় আরো তিনজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোকাররম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন ইউসিবিএল কর্মকর্তা, একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যজন আর্থিক খাতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ।

“আদালত আগামী ২৭ অগাস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।”

ইউসিবিএল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এই মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ মোট আসামি ৩৬ জন। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৯৬ সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জন সাক্ষ্য দিলেন। 

সবশেষ গত ৬ অগাস্ট এই মামলায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে ২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

গত বছরের ২৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেছিলেন।

মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।

গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান। ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ হাসানুল ইসলাম এই মামলায় দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রোটকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।

পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করেন।

নেতিবাচক প্রস্তাব থাকা স্বত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ধরনের ‘যাচাই-বাছাই না করে’ ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।

২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।