১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ‘উন্নতি’ হয়েছে: ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যক্রম ও প্রচারণা চালাতে, প্রতিবাদ করতে এবং সরকারের সমালোচনা করতে পারছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 12:01 AM

Updated : 19 Oct 2026, 12:01 AM

বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের ভিত্তিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘স্থিতিশীলতা ও উন্নতি’ ঘটেছে বলে মনে করছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তাদের দাবি, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের সংগঠন এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের চেয়ে কাজ করার, মতামত প্রকাশ ও প্রকাশ্যে আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি স্বাধীনতার কথা জানিয়েছে। যদিও দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা এবং গণঅভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত ব্যাপক সংস্কারের সীমিত বাস্তবায়নে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অব অ্যা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণারয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিন কর্মকর্তা গত ৭ থেকে ১৫ জুন ঢাকা সফর করেন।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। পরে তাদের দেওয়া রিপোর্টে ভিত্তিতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ হালনাগাদ মূল্যায়ন তুলে ধরেছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যক্রম এবং প্রচারণা চালাতে, প্রতিবাদ করতে এবং সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এখনও ঘটছে, তবে তা সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত এবং বেশিরভাগ সময় স্থানীয় স্তরের প্রভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সহিংস হিসেবেও বর্ণনা করে বলা হয়েছে, এ নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ এখনও নিষিদ্ধ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং ক্ষমতায় থাকাকালে দলটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ঘটনাবলীর কারণে তাদের প্রতি জনমনে এখনও ক্ষোভ রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সমর্থক যারা দুর্নীতি, সহিংসতা বা নিপীড়নে যুক্ত ছিল না, তারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে যারা প্রকাশ্যে দলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন, তারা হয়রানি, সামাজিক হেনস্থা বা সহিংসতার মুখ পড়তে পারেন। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ কিছু সদস্য অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আবার অনেকে বাংলাদেশের ভেতরেই অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন অথবা দেশ ছেড়েছেন।

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার হওয়া বেশিরভাগ মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বেশিরভাগ মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলেও তথ্য দেওয়া হয় প্রতিবেদনে। পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে আওয়ামী লীগের সময়কার ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভুয়া মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতীতের মামলাগুলোর পর্যালোচনাও অব্যাহত আছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে কথিত ভূমিকার জন্য বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ রাজনীতিবিদ, কর্মী এবং কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলছে, মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সাধারণ আদালত, উভয় মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন, আবার অনেকে বিচারের অপেক্ষায় আটক রয়েছেন।