০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সারের ডিলারশিপ: পরিবারের একজনকে রেখেই নীতিমালা বহাল রাখল চেম্বার আদালত

এক পরিবারের একাধিক সদস্যের সারের ডিলারশিপের সুযোগ বন্ধের বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট আবেদন করা হয়েছিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 05:49 PM

Updated : 07 Oct 2026, 05:49 PM

একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সারের ডিলারশিপের সুযোগ বন্ধের আদেশ দিয়ে সরকারের নীতিমালাই বহাল রেখেছে চেম্বার আদালত।

এর আগে হাই কোর্ট এক পরিবারের একাধিক সদস্যের সুযোগ রেখে স্থিতাবস্থা দিয়েছিল; বুধবার সেটি স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

এর ফলে সারের ডিলারশিপ ও বিতরণ সংক্রান্ত গত ২৭ আগস্ট প্রণীত নতুন নীতিমালার শর্তই থাকছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা আকতার জুঁই ও মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী একরামুল হক টুটুল।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, “নতুন নীতিমালায় একই পরিবারের একজনের ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ড থাকলে পরিবারের অন্য কেউ ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হতে পারবেন না।”

নীতিমালায় পরিবার বলতে বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, ছেলের ছেলে ও তাদের স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা এবং নির্ভরশীল ভাইবোনকে বোঝানো হয়েছে, যারা একই অন্ন গ্রহণ করেন।

গত ৫ অক্টোবর সরকারের এই বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাই কোর্ট তাদের বিদ্যমান ডিলারশিপ বাতিল না করার নির্দেশ দিয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেছিল। এরপর হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। বুধবার চেম্বার আদালতে এর শুনানি হয়।

আইনজীবী একরামুল হক টুটুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সার ডিলারশিপ এবং সার বিতরণ নীতিমালা ২০২৬-এর ৩.১.১ ধারায় বলা হয়েছে- ‘একই অন্নে বা পরিবারে বসবাসরত স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা নাতিনাতনিরা ডিলারশিপ নিতে পারবেন না’। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঠাকুরগাঁওয়ের এক দম্পতি হাইকোর্টে রিট করেন।

“গত ৫ অক্টোবর বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ ধারাটি কেন অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তিরই স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার অধিকার রয়েছে। একইসঙ্গে রিটকারী দুজনের লাইসেন্সের মেয়াদ যেহেতু ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও জুন মাস পর্যন্ত রয়েছে, সেহেতু ওই সময় পর্যন্ত তাদের ডিলারশিপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থিতাবস্থা দেওয়া হয়।”

এখন চেম্বার আদালতের আদেশের বিষয়ে এ আইনজীবী বলেন, “হাই কোর্টের দেওয়া ওই স্থিতাবস্থার আদেশটি বুধবার চেম্বার জজ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে মামলাটির রুল নিষ্পত্তির জন্য পুনরায় হাই কোর্টে পাঠিয়েছেন।”

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “হাই কোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশের অর্থ হল- ২৭ অগাস্টের সরকারি নীতিমালাটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং বলবৎ থাকল। এই নীতিমালার আলোকেই এখন থেকে ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ পরিচালিত হবে।”

তিনি বলেন, “২০০৯ সালের নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। এর সুযোগে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে বিভিন্ন সময়ে ডিলারশিপ তৈরি করে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল।”

এই ব্যবস্থা পরিবর্তনে ২০২৫ সালে নীতিমালা সংশোধন করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৭ অগাস্টের নীতিমালায়ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধের বিধান রাখা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “২০২৫ সালেও নীতিমালা সংশোধন করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সংশোধনের বিরুদ্ধে করা রিটে হাই কোর্ট ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছিল।

একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তির ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কৃষকের কাছে সারের সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিধান করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রের এ আইন কর্মকর্তা।