Published : 08 Sep 2025, 09:30 PM
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পিয়ন পদে নিয়োগ পেতে যারা আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে অনেক স্নাতক ডিগ্রিধারীও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
দেশের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যে অনেক, সেই সত্য তুলে ধরে তিনি দেশের উন্নয়নে কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সোমবার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলছিলেন উপদেষ্টা।
ইংরেজরা ‘জনবিচ্ছিন্ন কেরানি তৈরি করতে’ উপমহাদেশে আধুনিক শিক্ষার প্রচলন করেছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, "তারা সফল। কারণ আমরা এখন যারা শাসন করি, উই আর ডিটাচড ফ্রম দ্যা কমিউনিটি। এটার ফলাফলটা কি হচ্ছে দেখেন, আমাদের দেশের প্রচুর লোকজন উচ্চতর ডিগ্রি করে বের হচ্ছেন, কিন্তু তারা বেকার, তারা কর্মে অদক্ষ।"
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পিয়ন ও মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার তথ্য তুলে ধরে বিধান রঞ্জন বলেন, "পিয়ন পদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা হচ্ছে এসএসসি, সেখানে যারা অ্যাপ্লাই করেছেন, তাদের অনেকেই রয়েছেন গ্র্যাজুয়েট৷
“মুদ্রাক্ষরিক পদের জন্য মিনিমাম যোগ্যতা হচ্ছে এইচএসসি। কিন্তু সেখানে যারা অ্যাপ্লাই করেছেন তাদের অনেকেই গ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স (ডিগ্রিধারী)।”
উপদেষ্টা বলেন, "তাহলে আমাদের উচ্চশিক্ষার কী মূল্য রইল? আমরা এখনও কেরানি হওয়া থেকে বের হতে পারিনি।"
উচ্চশিক্ষিত বেকারদের সত্যিকার অর্থে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে হলে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
তিনি প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে পরিবর্তন আনতে পারলে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যেতে পারবে। না হলে দেশে শিক্ষিত বেকার বৃদ্ধি পাবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার মূল কারণ হিসেবে দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করে উপদেষ্টা বলেন, "এক্ষেত্রে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ তারা দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা, জীবনব্যাপী শিক্ষা ও বাজারের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচির উপর জোর দিচ্ছে।"
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব উল আলম এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজ উপস্থিত ছিলেন। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা 'উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা' প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ব্যক্তি ক্যাটাগরিতে প্রদীপ বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে ইউসেপ, বাংলাদেশ 'উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা' পেয়েছে।