১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

খিলগাঁওয়ের বাসায় যুবকের ঝুলন্ত লাশ, ঋণ ছিল ‘৩০–৩৫ লাখ টাকা’

পুলিশ বলছে, তুহিন ‘বিলাসী জীবনযাপন’ করতেন, ঋণের চাপে আগেও ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 18 Oct 2026, 09:15 PM

Updated : 18 Oct 2026, 09:15 PM

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের এক বাসা থেকে ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, মাহমুদুল হাসান তুহিন নামের ওই যুবক ব্যবসার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি বিপুল অংকের টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “তুহিন বিলাসী জীবনযাপন করতেন। তার ঋণের পরিমাণ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।

শনিবার বিকেলে খিলগাঁও থানার রিয়াজবাগ এলাকার ওই ভাড়া বাসা থেকে তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তুহিনের খালাতো ভাই মো. তোহা বলেন, রিয়াজবাগের ওই বাসায় তুহিন, তার স্ত্রী এবং তিনি একসঙ্গে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে তুহিন আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপে ছিলেন। ঋণের বোঝা সামলাতে বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রিরও চেষ্টা করেছিলেন।

তোহা বলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে কয়েকবার ডাকাডাকি করেও তুহিনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ডাইনিং টেবিলে রাখা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে দরজা খুলে তাকে খাটের চাদর গলায় পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর বাসার ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

তবে তুহিনের ‘বিলাসী জীবনযাপন’ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তার খালাতো ভাই তোহা।

খিলগাঁও থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তুহিনের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও আর্থিক সংকটের কারণে মানসিক চাপে থাকার তথ্য পেয়েছেন তারা।

“তিনি বেশ ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এর আগেও একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।”

ঘটনার সময় তুহিনের স্ত্রী কুমিল্লায় তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। তুহিনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। বাবার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম।

রাজধানীর নবাবপুরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিক্রির একটি দোকানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তুহিন। দুই বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”