গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক: নামফলকে ‘তাজউদ্দীন আহমদ’ ফিরছে কবে?
“শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক নামে আগের একটি নামফলক কিন্তু এখনও আছে, এটা যেন সরানো না হয় সেই নির্দেশনা আমি দিয়েছি,” বলেন রাজউক চেয়ারম্যান।
ঢাকার গুলশানের ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক’ এর নাম মুছে ফেলা নিয়ে সমালোচনার মুখে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেখানকার উন্মুক্ত অংশের নাম হবে ‘তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক’, আর খেলাধুলার অংশের নাম ‘গুলশান ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ রাখা হবে। কবে নাগাদ এ নামফলক বসানো হবে তার সুনির্দিষ্ট দিন না জানিয়ে রাজউক বলছে, ‘শিগগির’ নতুন সাইনবোর্ড বসবে।
রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কয়েক দফা সভা করে ইতোমধ্যে নামকরণের নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নামফলক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক নামে আগের একটি নামফলক কিন্তু এখনও আছে, এটা যেন সরানো না হয় সেই নির্দেশনা আমি দিয়েছি। শিগগিরই আরও কিছু সাইনবোর্ড বসানো হবে।”
রাজউক মালিকানাধীন ৮ দশমিক ৮৭ একর আয়তনের এ পার্কের নাম ছিল ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক। স্থাপনাটির আধুনিকায়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) দায়িত্ব দিয়েছিল রাজউক। উন্নয়ন কাজের পর ডিএনসিসি তার ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয় গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে।
২০২০ সালে ডিএনসিসির নামকরণ কমিটির সুপারিশ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এর নাম রাখা হয় ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক’।
পরে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে পার্কের নিয়ন্ত্রণ ফের নিজেদের হাতে নেয় রাজউক; নতুন সমঝোতা স্মারক সইয়ের (এমওইউ) মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয় সেই গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকেই। এরপরই পার্কটির নামফলক থেকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম মুছে ফেলা হয়।
নাম মুছে ফেলার বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বুধবার বলেন, “আমার কাছে তথ্য ছিল যে এটি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক, এভাবেই বরাদ্দ ছিল।
“কিন্তু পরে দেখা গেল যে, এটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়েই তাজউদ্দীন পার্ক করা হয়েছে—এই তথ্যটা আমার কাছে ছিল না। থাকলে এই ভুলটা হয়তো হতো না।”
এর আগেও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি গত মে মাসে বলেছিলেন, “আমাদের নথিতে এখনো পার্কটির নাম ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক’ হিসেবেই আছে।
“যদি নাম পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, সেটি আমাকে জানানো হয়নি। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। জাতীয় নেতাকে ঘিরে বিষয়টি বড় করতে চাই না। আমরা সবাইকে নিয়ে এটি সমাধান করব।”
নাম মুছে ফেলার ঘটনায় তখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ।
তাজউদ্দীন আহমদের নাম ‘ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেছিলেন, “এটা কোনো দলের দায়িত্ব ছিল না, এটা ছিল রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যে জাতি নিজের সত্তা, ইতিহাস ও উৎস সম্পর্কে অবহিত না, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের গর্ব ও অনুপ্রেরণার জায়গা, কিন্তু আমরা সেটাকেই ভুলে গেছি। এটাই বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি।”
চলতি বছরের ১৯ মে সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ইফতেখারুজ্জামানসহ দেশের ২৩ জন নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে রাজউকের পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক’ বলে বর্ণনা করেন। তারা অবিলম্বে আগের নাম বহাল এবং পার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
ডিএনসিসির সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ স্থাপনাকে ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক’ নামে তুলে ধরা হয়।
