২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদারটেকে প্রবাসীকে খুন: কথিত প্রেমিকার ‘স্বীকারোক্তি’, দুই আসামি রিমান্ডে

সবুজবাগ থানার মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা কালভার্ট এলাকায় গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রবাসী সিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 09:03 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে বাসা ডেকে এনে খুনের মামলায় তার কথিত প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এছাড়া এ খুনের মামলার আরও দুই আসামি সাজিদুল ইসলাম সাজিদ ও আল আমিন হোসেন জয়কে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ মঙ্গলবার নেহাসহ ৩ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এর মধ্যে নেহা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং অপর দুই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামি নেহার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি নিয়ে অন্য দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকালে সবুজবাগ থানার মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা কালভার্ট এলাকার রাস্তায় প্রবাসী সিফাতকে বাসা থেকে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম বলেন, “সাজিদের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। তবে জয়ের পক্ষে কোনো আবেদন ছিল না।”

শাহজাহানপুরের ঝিলপাড়া এলাকা থেকে গত সোমবার জয়কে ও কায়েতপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। অন্যদিকে সিফাত খুনের পর নেহাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। 

সিফাতকে খুনের ঘটনায় তার বাবা জয়নাল আবেদীন সাতজনকে আসামি করে গত সোমবার সবুজবাগ থানায় মামলা করেন। নেহা, সাজিদ, জয় বাদে মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আরাফাত, তুহিন, অনিক ও রাব্বী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রবাসী সিফাতের সঙ্গে নেহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দেড় মাস আগে সিফাত কাতার থেকে দেশে আসেন। পরবর্তীতে সিফাত জানতে পারেন, সাজিদের সঙ্গেও নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি নিয়ে সিফাত ও নেহার মধ্যে মনমালিন্য হয়। এ নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর নেহা ডেকে পাঠায় সাজিদকে। ওইদিন বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সিফাত মোটরসাইকেলে মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা কালভার্ট এলাকায় গেলে আসামিরা তার উপর হামলা চালায়। এলোপাথারী কুপিয়ে তাকে আহত করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিফাতের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। 

রাজধানীতে তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে আসা যুবককে কুপিয়ে হত্যা