সাবেক এমপি মাহফুজুর-নাসিমুলসহ ৩ জনের দুর্নীতির খোঁজে দুদক
তাদের বিরুদ্ধে দুদকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা, কুমিল্লার সাবেক এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী ও যশোরের সাবেক পৌর মেয়র জহুরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুদকে আসা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক এমপি নাছিমুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
“নাছিমুল নিজ নামে বিজে জিও টেক্সটাইল লিমিটেড কোম্পানিতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এবং নিকুঞ্জে দুটি ফ্ল্যাট, কুমিল্লার বরুড়া বাজারে প্রায় ১৭টি দোকান, কুমিল্লা সদরের ঠাকুরবাড়ি ও ঝাউতলায় দুটি বহুতল বাড়ি এবং নামে-বেনামে প্রায় ৪৫০ শত জমির মালিক হয়েছেন তিনি।”
চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুরের বিরুদ্ধে দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৫ টাকা। ১০ বছরে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮২৪ টাকা। অর্থাৎ এক দশকের মধ্যে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ১০১ দশমিক ২ শতাংশ। অস্থাবর সম্পদ ২০১৪ সালের তুলনায় এক দশকে বেড়েছে ১৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে মাহফুজুরের স্ত্রী মাহমুদা মাহফুজের বার্ষিক আয় ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৮ টাকা। অর্থাৎ এক দশকে বেড়েছে ১৯০ দশমিক ১১ শতাংশ। অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ২৯ দশমিক ০৫ শতাংশ।
সাবেক এ এমপির পরিবারের নামে পূর্বাচলে প্লট, মতিঝিলে ৫ কাঠা জমির ওপর ভবন, গুলশানে ফ্ল্যাট, উত্তরাযর দিয়াবাড়িতে ৫ কাঠার প্লট রয়েছে। তিনি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও দুদকে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অপরদিকে যশোরের সাবেক পৌর মেয়র জহুরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে মেয়র হওয়ার আগে নিজের বা পৈত্রিকভাবে ‘উল্লেখ করার মত’ সম্পদ ছিল না। কিন্তু মেয়র হওয়ার পর তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০১৮ সালে ৭২টি রাস্তাঘাট নির্মাণ ও শহরে বাতি স্থাপনের প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জহুরুল শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করে প্রায় ৪০ একর জমি আত্মসাৎ করেছেন। যশোর শহরের আরাবপুর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে বিশাল বাগান বাড়ি, যশোর শহরের রূপদিয়া বাজার এলাকায় ২০ বিঘা জমিতে ফিড মিল, কাজিপাড়ায় অট্টালিকা বানিয়েছেন। যশোরের বাঘারপাড়ার একাধিক স্কুল-কলেজের সভাপতি হওয়ায় নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
