০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আদানির ইউনিট ফিরল, রামপালে একটি বন্ধ, সন্ধ্যায় লোডশেডিং ১৭৫৭ মেগাওয়াট

তবে আগের দিনের একই সময়ের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Sep 2026, 10:44 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে ফিরেছে। 

তবে একই দিনে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি।

রোববার সন্ধ্যা ৬টায় আদানির দুই ইউনিট মিলিয়ে ১ হাজার ৪৫৩ দশমিক ৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল বলে কোম্পানিটির একটি সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছে। 

এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে উৎপাদন ছিল ৭৩০ দশমিক ৪২ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিটে ছিল ৭২২ দশমিক ৯৯ মেগাওয়াট।

ওই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। সাবস্টেশন প্রান্তে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৬১০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৬৭০ মেগাওয়াট।

এক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা বেড়ে ১৭ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াটে ওঠে। সরবরাহ বেড়ে হয় ১৫ হাজার ৪২৯ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে।

তবে আগের দিনের একই সময়ের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। 

শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৫১৮ মেগাওয়াট। রোববার বিকাল ৩টার সময়ও ঘাটতি ছিল বেশি। তখন ১৫ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮০৩ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াট।

আদানির দ্বিতীয় ইউনিটটি রোববার ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে চালুর প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। দুপুরের দিকে সেটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়। 

গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহরে কারিগরি ত্রুটিতে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের  ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্যে বলা হয়, ইউনিটটির ‘এইচপি হিটার ইনলেট ভাল্ব’ এ বড় ধরনের লিক হয়েছিল। 

ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় আদানি থেকে ১ হাজার ৪৩০ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছিল। 

ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর তা নেমে আসে ৬৯১ দশমিক ৪৪ মেগাওয়াটে। ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সরবরাহ ছিল যথাক্রমে ৭৬২ দশমিক ৭৭ ও ৭৬২ দশমিক ১৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ইউনিটটি বন্ধ থাকার সময় আদানি থেকে প্রায় ৬৬৭ থেকে ৭৩৯ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। তবে আদানির ওই ইউনিট উৎপাদনে ফেরার দিনই রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

রোববার দুপুরে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

“ভারতের আদানি থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপালের দুই নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে।”

ইউনিটটি কতদিন পর চালু করা যাবে জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম বলেন, “ইউনিট বন্ধের পর শীতলীকরণ করতে হয়। ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা আসার পর কাজ শুরু হবে। 

“পুনরায় চালু হতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করছি।”

এর আগের দিন সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় রামপাল কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। ফলে আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৭০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন ফিরে এলেও একই সময়ে রামপালের উৎপাদন প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট কমেছে।

বিদ্যুতের ঘাটতির পেছনে শুধু এই দুই কেন্দ্রের ওঠানামাই নয়, অন্য বড় কেন্দ্রের উৎপাদন কম থাকাও ভূমিকা রাখছে। 

ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ছিল ৫৭০ মেগাওয়াট। মাতারবাড়িতে উৎপাদন ছিল ৭২২ মেগাওয়াট। পটুয়াখালীর আরএনপিএল কেন্দ্রেও উৎপাদন ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। একই সময়ে গ্যাসের ঘাটতিতে কয়েকটি বড় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারেনি।

গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। 

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। রোববার একই সময়ে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়।

এলএনজি থেকে সরবরাহ এ সময়ে প্রায় ৭০১ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে ৭৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। তারপরও বিদ্যুৎ উৎপাদনে উন্নতি হয়নি। কারণ গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্রগুলোর কয়েকটিও পূর্ণ সক্ষমতায় ছিল না।

গত কয়েক দিনের লোডশেডিংয়ের তথ্যেও এ ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৭৭১ মেগাওয়াট। 

আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় তা ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে ওঠে। সন্ধ্যার সময় ছিল ২ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট। পরের দিন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় লোডশেডিং আবার কমে ১ হাজার ২৬ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

শনিবার সন্ধ্যার পর ঘাটতি আবার বাড়ে। রাত ৮টায় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮১৩ মেগাওয়াট। রাত ৯টায় ছিল ২ হাজার ৭৯৭ মেগাওয়াট। রাত ১০টায় তা ছিল ২ হাজার ৩৪৪ মেগাওয়াট।

পিডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকট বেড়েছিল। তবে সেটিই একমাত্র কারণ নয়। চাহিদার ওঠানামা, গ্যাসের সীমাবদ্ধতা এবং দেশের অন্য বড় কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কম থাকাও লোডশেডিংয়ের মাত্রায় প্রভাব ফেলছে।

আরও পড়ুন

কয়লা পরিবহনের সংকটে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে: আদানি

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক