০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

কয়লা পরিবহনের সংকটে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে: আদানি

গড্ডা কেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ মিলছে না— ঢাকার এমন বক্তব্যের মধ্যে ভারতীয় কোম্পানিটির তরফে এ বক্তব্য এল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2026, 09:20 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

রেলপথে জট ও কয়লা পরিবহনে বিধিনিষেধের প্রভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলেছে আদানি পাওয়ার।

ভারতীয় কোম্পানিটি বলেছে, দিনের কম চাহিদার সময়ে উৎপাদন কমিয়ে তারা সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বুধবার কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার এসব বক্তব্য তুলে ধরেছে।

এদিন জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গড্ডা কেন্দ্র থেকে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

আদানি পাওয়ার বিবৃতিতে বলেছে, রেলপথে তীব্র জট এবং পরিবহন নেটওয়ার্কে একাধিক বিধিনিষেধের কারণে গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত কয়লাবাহী রেকের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

রেক হলো রেলের সঙ্গে যুক্ত একাধিক মালবাহী ওয়াগনের বহর।

বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) জানানো হয়েছে বলেও বিবৃতিতে লিখেছে আদানি পাওয়ার।

তাদের ভাষ্য, স্বাভাবিক হারে কয়লাবাহী রেক পাওয়া নিশ্চিত করতে তারা ভারতের রেলপথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

আদানি পাওয়ার বলেছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা করছে। 

আদানির সরবরাহ কমার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশে জ্বালানি সংকটের তীব্রতা বেড়ে গিয়েছে। সরকারকে প্রায় প্রতিদিনই জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।

এদিন সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্র দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

আদানি পাওয়ারের গড্ডা বিদ্যুৎকন্দ্রটির সক্ষমতা ১৬০০ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করে ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন এ কোম্পানি। 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের বকেয়া আদায়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছিল আদানি পাওয়ার। 

আরও পড়ুন

আদানির ইউনিট বন্ধে বেড়েছে চাপ, লোডশেডিং ২৫০০ মেগাওয়াট