Published : 30 May 2026, 11:04 PM
আদ-দ্বীন হাসপাতাল ভবনের উপরের একটি তলায় ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য আসার পর ভেতরে ঢুকে ছবি ও ভিডিও নেওয়ার চেষ্টা করলে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে বলে একাধিক সংবাদকর্মী জানিয়েছেন।
এর আগে বিকেল ৫টার পর আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
হাসপাতাল ঘুরে দেখার পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের পর্যবেক্ষণ দেখেছি। তবে এই ঘটনায় যাদের বাচ্চারা মারা গেছে তাদের সবার সঙ্গে এখনো পূণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। তাই তারা সময় চেয়েছে।”
এ সময় তিনি বলেন, হাসপাতাল ভবনের ওপরে একটি তলায় ‘রুটির কারখানা’ পাওয়া গেছে।
“যেখানে ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি হতো। তবে এখানে কোনো ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়নি।
“এই কারখানা থেকে এমন কিছু গ্যাস তৈরি হতে পারে কিনা, যেটা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে সেটি দেখা হবে। এটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকাল হাসপাতালে আবার বিশেষজ্ঞ দল আসবে।”
হামলার শিকার একাধিক সংবাদকর্মী অভিযোগ করেছেন, মন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শনে আসায় একটি টিভি চ্যানেল শুধু তার সঙ্গে ছিল। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধান ফটকে ব্রিফিংয়ের সময় তিনি হাসপাতাল ভবনে ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য দেন। এরপর তারা ভিতরের ঢুকে ছবি ও ভিডিও করতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তাদের কর্মীরা সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন।
হামলার শিকার এখন টিভির প্রতিবেদক মো. রিপন বলেন, “আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি। তবে ব্রিফিংয়ের পর আমরা হাসপাতালের ভিতরের ফুটেজ নিতে চাইলে কর্তৃপক্ষের লোকজন চড়াও হন। এক পর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা করে।”
তিনি বলেন, “হামলাকারীরা তেড়ে এলে আমরা হাসপাতালের সামনে একটি বাসায় আশ্রয় নিই, সেখানেও তারা ডাব, ইটপাটকেল ছুড়ে মারে।
“এমনকি আমরা যে কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলাম তার দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে, কিন্তু পারেনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের রুমের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়।”
হামলার শিকার স্টার নিউজের প্রতিবেদক নিবিড় সাহা বলেন, “কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করে দেয়নি। এক পর্যায়ে আমরা মগবাজারের দিকের ফটকের পাশে অবস্থা করি। কিছুক্ষণ পর দেখি, কর্মীদের এনে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানবঢাল তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালের একজন ম্যানেজারের সঙ্গে কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে তারা চড়াও হন।”
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ২০ জনের বেশি কর্মী ছিলেন তুলে ধরে তিনি বলেন, হামলাকারীদের কেউ ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার, আবার কেউ ভাঙ্গার চেষ্টা করে। সংবাদকর্মীরা মগবাজার মোড়ের দিকে ফটকের পাশের গলি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় অনেকে ‘শারীরিক নির্যাতনের শিকার’ এবং আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ও একজন সহকারী পরিচালককে ফোন করলে তারা ধরেননি।
রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে কারো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কোরবানির ঈদের আগের দিন ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
বুধবার ভোর থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছয়টি শিশু কেন শ্বাসকষ্টে ছটফট করে মারা গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এ ঘটনা তদন্ত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কমিটি।