১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঁধনের ঘটনায় কেউ ছাড় পাবে না: তথ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি

“আমরাও হামলার শিকার হতে পারি, বাট উই ডোন্ট কেয়ার।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 02:34 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

এ ঘটনায় দেশটিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের হওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় সোমবার গভীররাতে ভেনিস শহরের মেস্ত্রে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই অভিনেত্রী ফেইসবুক লাইভে বলেন, আওয়ামী লীগের একদল কর্মী তাকে গায়ে পানি ও কোক ছুড়েছে।

“তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে। আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।”

“...তারা বলেছে যে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারা বলেছে যে, তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।”

এ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “আজমেরি হক বাঁধনের উপরে হামলা হয়েছে, আমরা ভিডিও দেখেছি—সেটা উনি না, যারা হামলা করেছেন তারা নিজেরাও ভিডিও-টিডিও করে এটা পাবলিশ করেছেন।

“মানে আমার কাছে এভাবে বলতে ইচ্ছা করে, যারা এটা করেছেন তাদেরকে একটু ধন্যবাদও দেওয়ার আছে। আওয়ামী লীগ কী বস্তু, আওয়ামী লীগ তারা কারা করেন, আওয়ামী লীগ কী—তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।”

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আমি আপনাকে এটা নিশ্চিত করছি, এই ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া—এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না, এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।”

হামলার ঘটনাকে বাঁধনের জন্য এক ধরনের প্রাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেন জাহেদ উর রহমান।

তার কথায়, “বাঁধন তার একটা ফেইসবুক লাইভে বলছিলেন যে, তো জুলাই যোদ্ধা—তখন উনি বলছিলেন, ‘ইয়েস আই অ্যাম’। একইভাবে আমরা অনেকেই সেরকম আছি, আমরা হামলার শিকার হতে পারি, বাট উই ডোন্ট কেয়ার! একেবারেই না। এবং এটা কারও ওপর যদি হয়—আমি আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে বলব—এটা এক ধরনের কী বলব, তার অর্জন, সম্মান প্রাপ্তি।

“যে আওয়ামী লীগের হেনস্তা হওয়ার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি সঠিক পথে ছিলেন।”

জুলাই আন্দোলনে বাঁধন ছিলেন সোচ্চার

সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল ব্যক্তি বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ছে। তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণও করা হয়। এ সময় কোলে বাচ্চা নিয়ে এক ব্যক্তি আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

ঘটনাস্থলে ওই ব্যক্তির স্ত্রীও ছিলেন, যিনি আক্রমণকারী নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। বাঁধন এক পোস্টে তাদেরকে ‘কাজিন’ ও তার পরিবার বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

আক্রমণকারী দলের কেউ কেউ ঘটনাটি ফেইসবুকে লাইভ করেন। তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, “এই যে জুলাই জঙ্গি! যিনি দেশের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে... এই যে দেখতেই পাচ্ছেন, ভেনিসে আছে। আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ। এই ডিম আনো! ডিম আনো! …আমরা দেশদ্রোহী জঙ্গি, এই জঙ্গি; আমরা তাকে গোসল করিয়ে দিয়েছি।”

ওই ব্যক্তি বলতে থাকেন, “ওরা দেশটা ধ্বংস করছে! আজকে প্রত্যেকটা জায়গায় মানুষের লাশ পাওয়া যায় বাংলাদেশে! কোনো মানুষের শান্তি নাই!”

একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমরা ইতালির ছাত্রলীগ! আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক! বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে ওরা যাবে, আমরা তাদের প্রতিহত করব! জুলাই জঙ্গি! তুই জঙ্গি! জঙ্গি! ডলারে বিক্রি হয়েছিল, ডলারে।”

পরে বাঁধন সাবেক সাংবাদিক নাজমুস সাকিবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ঘটনার পর ফোন পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন এই অভিনেত্রী।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া বাঁধনের পাশে ফেইসবুকে সরব হয়েছেন জুলাই আন্দোলনকারীরা।

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা