১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
একজন বাংলাদেশি নৃতত্ত্ববিদ, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, সান আন্তোনিও-তে নৃতত্ত্বে পিএইচডি গবেষণা করছেন। গবেষণার ক্ষেত্রে তার আগ্রহ বহুমাত্রিক—বিশেষ করে মানুষ ও অন্যান্য প্রজাতির আন্তঃসম্পর্ক, ধর্ম ও সহিংসতা, স্থানিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জটিল সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার বিশ্লেষণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা থেকে ধর্মতত্ত্বে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিক সম্মেলনে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। পুরস্কৃত হয়েছেন বিভিন্ন কাজের জন্য। বাংলাদেশে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে শিক্ষাদান করেছেন।
‘বিজ্ঞানীরা বলেছেন’–এই বাক্যটি অনেকের কাছে চূড়ান্ত সত্যের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান নিজেই শেখায়, কোনো সত্যই চূড়ান্ত নয়; প্রত্যেক সত্যই পরীক্ষাযোগ্য, পরিবর্তনযোগ্য এবং প্রশ্নযোগ্যও।
আজকের পৃথিবীতে সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু মিথ্যা নয়, বরং অর্ধসত্য। রাজনীতি এই অর্ধসত্য তৈরি করে, করপোরেট তা পোষণ করে, প্রযুক্তি তা প্রচার করে, আর মানুষ তা গ্রহণ করে।
জরাথুস্ট্রীয় দ্বৈতবাদ মানব সভ্যতাকে একধরনের নৈতিক সংহতির কাঠামো দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটি বিশ্ববাস্তবতার জটিলতা ও পরিবর্তনশীলতাকে প্রায়শই উপেক্ষা করেছে। বহু ধর্ম ও দর্শন এই দ্বৈত কাঠামোকে প্রশ্ন করে, এমনকি ভেঙে দেয়।
বাংলাদেশেও নৈতিক কোতোয়ালির প্রচুর দৃষ্টান্ত আছে। হিজাব পরা-না পরা, প্রেমিক-প্রেমিকার রাস্তায় হাঁটা, রাতের বেলায় মেয়েদের বাইরে থাকা—এসব নিয়ে জনতার ‘নৈতিক তদারকি’ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ উপনিবেশ শুধু বন্দুক আর বাণিজ্যের ওপর গড়ে ওঠেনি—এটা ছিল চেতনার ওপর চাপানো শাসনের সূক্ষ্ম নকশা। সমদর্শনের চোখে গড়ে তুলেছিল এক অদৃশ্য কারাগার, যার প্রভাব আজও আমাদের মধ্যে বিদ্যমান।
প্রাচীন সর্বপ্রাণবাদী বিশ্বাস আজ আবার নতুন আলোয় ধরা পড়ছে বিজ্ঞানের জটিলতা তত্ত্বে। শিকার বা সেচের আচারগুলো প্রমাণ করে, মানুষ ও প্রকৃতি আসলে এক সহ-সৃষ্টিশীল, আন্তঃনির্ভরশীল মহাব্যবস্থা।