২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সাহিত্যের অভিমানী রাজপুত্র: আবদুল মান্নান সৈয়দ

তিনি ছিলেন খুব সুদর্শন ও পৌরুষদীপ্ত একজন মানুষ। ভীষণ স্মার্ট। আদ্যন্ত নাগরিক। গ্রাম্যতার লেশমাত্র তাঁর মধ্যে ছিল না। ক্যামেরার সামনে এবং ক্যামেরা ছাড়াও যখন কথা বলতেন, মুগ্ধ হয়ে শুনতে ইচ্ছা হতো। তাঁর লেখাও ছিল তেমনি হৃদয়গ্রাহী। ব্যক্তিজীবনে ও পেশায় এত সফল একজন মানুষ।

শান্তা মারিয়া শান্তা মারিয়া

Published : 03 Aug 2025, 01:35 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

‘শুধু তোমাকে সালাম-- আর কাউক্কে তোয়াক্কা করি না,/আর-সব-পায়ে-দলা মুথাঘাস-- শুধু তুমি ঘাসে রত্নফুল,/ আর-সব নোংরা টাকা-পয়সার মতো : হাতে-হাতে ঘোরে-ফেরে--/শুধু তুমি অমল-ধবল তুমি,/তোমার আহারে শুধু ঘড়ি লাগে-- আর-কিছুই রোচে না তোমার,/নামো ঝরনা ফাটিয়ে পাথর-- সৃষ্টি তার মুখোশ ছিঁড়েছে,/বস্তুর বিরুদ্ধে শুধু অফুরান প্রজাপতি ওড়ে ॥’ (সৃষ্টিশীলতার প্রতি, আবদুল মান্নান সৈয়দ) সত্যিই শিল্প ছাড়া আর কোন কিছুকেই তিনি তোয়াক্কা করেননি। ক্ষমতার পদলেহন করেননি কোনদিন। তাই অসামান্য প্রতিভা নিয়েও এবং বহুমুখী ও বিচিত্র সৃষ্টি সম্ভার সত্ত্বেও যেন কিছুটা আড়ালেই ছিলেন জীবনভর। 

বলছি কবি আবদুল মান্নান সৈয়দের কথা। বাংলা সাহিত্যের এক অমিত প্রতিভাধর স্রষ্টা। কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ, গবেষণা কোনটাতে তিনি সাফল্য পাননি? কাব্যলক্ষ্মী তাঁর বক্ষলগ্না হয়েছে অনায়াসে।তাঁর প্রবন্ধ ক্ষুরধার। কথাসাহিত্যে রয়েছে কবিতার মোহময়তা। তবে দীর্ঘদিন বেশ কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে বলেই আমার মনে হয়েছে কিছুটা অভিমান তাঁর ছিল। হয়তো অভিমানভরেই বলেছিলেন, “আনন্দ কাকে বলে—আজ আর মনে নেই আমার।/ আমার সেই গ্রামে তাবত্ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে/শুধু একটি গাছ/স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।/যার ডালে একটিও পাখি বসে না আজ আর।/যার কোনো ফুল ফোটে না।/কোনো ফলও না।/শুধু কী এক গভীর ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে।/আমি সেই গাছ।/সেই গাছ।”(একটি গ্রামের কথা, আবদুল মান্নান সৈয়দ)। 

আবদুল মান্নান সৈয়দের সঙ্গে পরিচয় আমার সুদূর শৈশবে। বাবার পরিচিত ছিলেন, সেই সূত্রে। পশ্চিমবঙ্গের সূত্রে কেমন আত্মীয়তাও ছিল। তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট অবিভক্ত ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের তৎকালীন চব্বিশ পরগণা জেলায়।  আমার কিশোর বয়সে অনেকবার তাঁর কাছে কবিতা নিয়ে গিয়েছি বাবার সঙ্গে। সংশোধন করে দিয়েছেন। সে সময় তিনি টিভিতে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির বিষয়ে একাধিক অনুষ্ঠান করেছেন। তিনি সে সময় টিভির পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। প্রগাঢ় পাণ্ডিত্যের কারণে শিল্প সাহিত্যের জটিল বিষয়গুলোকেও সহজভাবে তুলে ধরতে পারতেন। সেই সাদাকালো এবং পরে রঙিন টিভির পর্দায় তাঁকে দেখতাম। মুগ্ধ হতাম কথকতায়। 

এরপর তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগ ঘটে কবি আবিদ আজাদের মাধ্যমে। তিনি আশির দশকে কবি আবিদ আজাদের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘শিল্পতরু’ পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। আবিদ আজাদভাই ছিলেন খুবই প্রিয়জন। আশি ও নব্বই দশকে শিল্পতরুর কার্যালয় হয়ে উঠেছিল এদেশের অনেক প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের প্রিয় আড্ডাস্থল। 

২০০২ সালে যখন কবি আবিদ আজাদের জন্মদিন পালনের কাজে আমি, কবি শাহিন রিজভি, কবি শাকিল রিয়াজ কোমর বেঁধে নামি তখন আবার মান্নান সৈয়দভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়। কারণ তিনি ছিলেন আবিদ আজাদের জন্মদিন পালন উৎসবের একজন প্রধান উপদেষ্টা। কবি আবিদ আজাদ বিটিভিতে বইপত্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। আমি তাঁর সহউপস্থাপক ছিলাম। আবিদভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে অনুষ্ঠানটির হাল ধরেন মান্নান সৈয়দ ভাই। 

 ২০০৫-০৭ সালের দিকে বিটিভিতে বইপত্র অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান উপস্থাপক ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম সহ-উপস্থাপক। মান্নানভাই তখন থাকতেন ঢাকার গ্রিন রোডে তাঁর নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্টে। অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং থাকলে বেশিরভাগ দিন আমি তাঁকে নিয়ে একসঙ্গে রামপুরার টিভি ভবনে যেতাম। সেই দিনগুলোতে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ হয়েছে বিভিন্ন প্রসঙ্গে। বিশেষ করে নব্বই দশকের কবিদের কবিতা নিয়ে তাঁর কৌতুহল ছিল। একটা বিস্তারিত আলোচনাগ্রন্থ লেখার পরিকল্পনাও করছিলেন। আমার সঙ্গে এ প্রসঙ্গে বলতেন, মতামত দিতেন। শিল্প, সাহিত্য, চিত্রকলা, চলচ্চিত্র-আমাদের আলাপ অনায়াসে গড়িয়ে যেত এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে। তিনি সব বিষয়ে ছিলেন ‘আপটুডেট’। বিভিন্ন বিষয়ে খুব সহজে মূল তাৎপর্য তুলে ধরতে পারতেন। বলছি বটে আমরা আলাপ করতাম, তবে সঠিকভাবে বলতে গেলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি বলেছেন, আমি শুনেছি। কি বাংলা সাহিত্যে আর কি বিশ্বসাহিত্যে এমন অগাধ পাণ্ডিত্য আমি খুব কম মানুষেরই দেখেছি। হবে না কেন? তিনি শিক্ষাজীবনে তুখোড় মেধাবী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।পেশাও ছিল শিক্ষকতা। অধ্যাপনা করেছেন দীর্ঘদিন। তিনি শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ, সিলেটের এম. সি. কলেজে, এবং ঢাকায় জগন্নাথ কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ডিসট্রিক্ট গেজেটিয়ারে। ঢাকার জগন্নাথ কলেজে দীর্ঘ কাল অধ্যাপনা করার পর ২০০২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত মেয়াদের জন্য তিনি নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালকের পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক থাকার সময় বহুবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা তরুণ কবিরাও কবিতাপাঠ করার সুযোগ পেয়েছি। তরুণদের প্রতি বরাবরই তিনি ছিলেন উদার। 

গবেষণাও করেছেন সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। ‘নজরুল ইসলাম - কবি ও কবিতা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ। জীবননানন্দ দাশের কবিতা নিয়ে আবদুল মান্নান সৈয়দের গবেষণা কাজ বাংলাদেশের সাহিত্য গবেষণার অনবদ্য সম্পদ। ‘শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ’ বাংলা সাহিত্যের একটি অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ। 

মনে আছে কথা প্রসঙ্গে একদিন আমি তাঁকে বলেছিলাম, আমার কাছে মনে হয়, আপনার মধ্যেও একজন জীবনানন্দ বাস করেন। তেমনি উদাসীন ও আত্মমগ্ন এক কবি।  কথাটি শুনে তাঁর প্রাণখোলা হাসি আজও আমার কানে ঝংকার তোলে। 

তিনি ছিলেন খুব সুদর্শন ও পৌরুষদীপ্ত একজন মানুষ। ভীষণ স্মার্ট। আদ্যন্ত নাগরিক। গ্রাম্যতার লেশমাত্র তাঁর মধ্যে ছিল না। ক্যামেরার সামনে এবং ক্যামেরা ছাড়াও যখন কথা বলতেন, মুগ্ধ হয়ে শুনতে ইচ্ছা হতো। তাঁর লেখাও ছিল তেমনি হৃদয়গ্রাহী।  ব্যক্তিজীবনে ও পেশায় এত সফল একজন মানুষ। তাহলে কেন তাঁর কবিতায় ঝলসে উঠতো বিষণ্নতা? ‘লোকে জিগেস করে—/তোমার কবিতায় এত বিষণ্ন রঙ কেন আজকাল?/কোনো জবাব দিই না।’ (একটি গ্রামের কথা) । সেই বিষণ্নতা কি পরাবাস্তব? তিনিই তো ষাট দশকে বাংলাদেশের কবিতায় সৃষ্টি করেন পরাবাস্তবতার বিষণ্ন আবেশ। 

১৯৬৭ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ বাংলা কবিতায় এমন এক দ্বীপের সৃষ্টি করে যে দ্বীপের একক বাসিন্দা তিনি নিজেই। তাঁর একুশটি কবিতা গ্রন্থ জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতায় তিনি নিজস্ব পৃথিবী সৃষ্টি করতেন। পরাবাস্তব সেই কাব্য-পৃথিবীর কণ্ঠস্বর মোটেই উচ্চকিত নয়। বলতে কি, উচ্চকিত উচ্চারণ তিনি পছন্দ করতেন না। সেগুলো তাঁর কাছে বড় বেশি শ্লোগানধর্মী বলে মনে হতো। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল কবিতা যদিও কখনও কখনও শ্লোগান হয়ে উঠতে পারে কিন্তু শ্লোগান কখনও কবিতা হতে পারে না। কবিতার নান্দনিকতাই তার চূড়ান্ত অভীষ্ট। এজন্যই হয়তো তিনি জীবনানন্দের কাব্যজগতকে এত গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। 

লেখিকা শান্তা মারিয়ার তোলা এই ছবিতে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ বসে আছেন কবি আবুল হোসেনের পাশে

তিনি অনেক কবির কবিতা সমগ্র সম্পাদনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জীবনানন্দ দাশের কবিতা, ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কবিতা, ফররুখ রচনাবলী (প্রথম খন্ড), বাংলাদেশের কবিতা, বাংলাদেশের ছড়া, সমরসেনের নির্বাচিত কবিতা, মোহিতলাল মজুমদারের নির্বাচিত কবিতা, বুদ্ধদেব বসুর সুনির্বাচিত কবিতা ।  কবি শাহাদাত হোসেনের ইসলামী কবিতা এবং কমরেড মোজাফফর আহমদের পত্রাবলী সম্পাদনা ও সংগ্রন্থনাও করেছেন তিনি। 

শুরুতেই বলেছি মান্নানভাই ছিলেন বহুমুখী প্রতিভাধর। নাটক রচনাতেও প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন তিনি। তিনি লিখেছেন, কাব্যনাট্য, প্রহসন, একাঙ্ক, শ্রুতিনাট্য, পূর্ণাঙ্গ নাটক, অনুবাদ নাটক। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয় তার নাট্যগুচ্ছ। ২০০৯-এ প্রকাশিত হয় নাট্যধর্মী সকল লেখার সঙ্কলন নাট্যসমগ্র। তিনি ছোটগল্পের নাট্যরূপ দিয়েছেন। তার কয়েকটি কাব্য নাট্যের নাম বিশ্বাসের তরু, জ্যোৎস্না-রৌদ্রের চিকিৎসা, ঈশ্বরপ্রাপ্তির ছোট্ট গাঁথা, চাকা, কবি ও অন্যেরা এবং আটতলার ওপরে।

আবদুল মান্নান সৈয়দের প্রতিভার আরেকটি দিক নিয়ে কথা না বললেই নয়। ছবি আঁকার দারুণ হাত ছিল তাঁর। স্কুল জীবন থেকেই ছবি আঁকতেন। ষাটের দশকে অশোক সৈয়দ নামে অনেক ছবি এঁকেছেন। তবে ছবি আঁকার বিষয়টি তাঁর নিতান্ত শখ বা খেয়াল ছিল বলেই কিনা জানি না সেগুলো তেমনভাবে প্রকাশ করেননি। ২০০৮ সালে একটি ম্যাগাজিনে তাঁর আঁকা বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হলে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়। 

আবদুল মান্নান সৈয়দ কতটা ব্যতিক্রমী লেখক ছিলেন সেটি তাঁর কবিতাগ্রন্থের নাম দেখলেই কিছুটা বোঝা যায়। 

জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭), জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা (১৯৬৯), ও সংবেদন ও জলতরঙ্গ (১৯৭৪),কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৮২),পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮৪),পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি (১৯৮৩),মাছ সিরিজ (১৯৮৪),সকল প্রশংসা তার (১৯৯৩)।

উপন্যাসের বেলাতেও একই কথা প্রযোজ্য। ‘পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী’, ‘অ-তে অজগর’,‘কলকাতা’,‘পোড়ামাটির কাজ’,‘হে সংসার হে লতা’। সত্যিই চমক জাগে যখন দেখি তাঁর গল্পগ্রন্থের নাম ‘সত্যের মতো বদমাশ’। তিনি জীবনী গ্রন্থ লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে,   ‘বেগম রোকেয়া’,‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’, ‘সৈয়দ মুর্তাজা আলী’,‘ফররুখ আহমদ’,‘শাহাদাত্ হোসেন’,‘জীবনানন্দ দাশ’,‘প্রবোধচন্দ্র সেন’,‘আবদুল গণি হাজারী’,‘সৈয়দ মুর্তাজা আলী’ ।

সত্যি  বলতে কি, আবদুল মান্নান সৈয়দ লেখেননি এমন বিষয় নেই। তাঁর সামগ্রিক রচনাবলী প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর লেখা অবশ্যই বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। 

২০১০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আবদুল মান্নান সৈয়দ মৃত্যুবরণ করেন। সেই দিনটির কথা খুব মনে আছে। বাংলা একাডেমিতে যখন তাঁর মরদেহ আনা হয় তখন সেখানে শিল্প সাহিত্য জগতের এমন কেউ ছিলেন না যিনি শোকস্তব্ধ হননি। একাডেমি প্রাঙ্গণে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভিড়ের মধ্যে কোনদিনই আমি সহজ হতে পারি না। প্রকাশ্যে শোক প্রদর্শনেও একান্ত অপারগ। মনে মনে শুধু বলছিলাম, এত কি তাড়া ছিল মান্নানভাই? মাত্র সাতষট্টি বছর বয়সে চলে গেলেন। এমন তো কথা ছিল না। তিনি কোন জবাব দেননি। তবে উত্তরটি আমার এবং সকলেরই হয়তো জানা। তিনি তো চলে যাননি। বাংলা সাহিত্যে তাঁর আসন চিরস্থায়ী। বাংলা সাহিত্যের অভিমানী রাজপুত্র আবদুল মান্নান সৈয়দ তাঁর বিপুল সৃষ্টি নিয়ে প্রতীক্ষা করছেন ভবিষ্যত পাঠকের।