১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নাসির আলী মামুনের আলোকচিত্রে 'শতবর্ষে সুলতান'

১৯৭৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এসব আলোকচিত্র নাসির আলী মামুনের ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে এবারই প্রথম।

নাসির আলী মামুনের আলোকচিত্রে 'শতবর্ষে সুলতান'
ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুক্রবার শুরু হয় নাসির আলী মামুনের ৬৫তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'শতবর্ষে সুলতান'।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2025, 09:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:38 PM

ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে নাসির আলী মামুনের ৬৫তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'শতবর্ষে সুলতান'। 

এতে নাসির আলী মামুনের তোলা চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৮টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।

নাসির আলী মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সময়কালে এসব আলোকচিত্র তার ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আলোকচিত্র জনসম্মুখে এই প্রথম প্রদর্শন করা হচ্ছে।

১৯৭৬ সালে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে শিল্পী সুলতানের একটি চিত্র প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন নাসির আলী মামুন। 

১৯৭৭ সালে তিনি প্রথম সুলতানের ছবি তোলেন। পরে ১৯৭৯ সালে সুলতানের গ্রামের বাড়ি নড়াইলের মাছিমদিয়ায় গিয়েও ছবি তোলেন তিনি।

নাসির আলী মামুন বলেন, "১৯৮০ সালে সুলতানের নড়াইলের বাড়িতে, যার কোনো দরজা-জানালা ছিল না, সেখানে এক অভাবনীয় দুর্লভ মুহূর্ত আমার জন্য অপেক্ষা করে।

"সুলতান যখন হাতে তুলে নিয়েছেন কাগজ, কলম ও পেনসিল, আমি খুঁজছিলাম সুলতানের মুখচ্ছবি। কিন্তু আমার আগেই শিল্পী খুঁজে পেয়েছেন তাঁর ছবির বিষয়। আমি মুখোমুখি বসেছিলাম একটা ভাঙা চেয়ারে। কয়েক মিনিটের মধ্যে টের পেলাম সুলতানের হাতে জন্ম নিচ্ছে আমার মুখের স্কেচ। হতবাক আমি নিজেই এক স্থিরচিত্রে পরিণত হয়ে যাই।"

সেই মুহূর্তে বিস্মিত হওয়ার কথা মনে করে নাসির আলী মামুন বলেন, "এ-ও কি সম্ভব! যার খ্যাতি ঈর্ষণীয়, যিনি কিংবদন্তিতুল্য, শত অনুরোধ আর অর্থলোভ দেখিয়েও যাকে দিয়ে কেউ মুখের স্কেচ করাতে পারেননি, সেই এস এম সুলতানের হাতে চিত্রিত হচ্ছি আমি! আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তগুলোর একটি এই অভিজ্ঞতা। দীর্ঘকাল আমার ক্যামেরার ফোকাসে থাকা এস এম সুলতান ও আমি একসময় বন্ধু হয়ে যাই।"

ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুক্রবার শুরু হয় নাসির আলী মামুনের ৬৫তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'শতবর্ষে সুলতান'। 

ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুক্রবার শুরু হয় নাসির আলী মামুনের ৬৫তম একক আলোক

'শতবর্ষে সুলতান' প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, "বাংলাদেশের চিত্রশিল্পীদের কথা বললেই তিনটা নাম চলে আসে। জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান এবং এস এম সুলতান। সুলতানের প্রথম একটা চিত্রকর্ম দেখেছিলাম প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সাহেবের বাসায়। ধান মাড়াইয়ের একটা চিত্র ছিল সেটি। পরে আমি সুলতানের চিত্রকর্ম সংগ্রহ করি।"

"চিত্রকর্মে সুলতান পেশিবহুল মানুষকে দেখিয়েছেন। নারীকে তিনি পেশিবহুল হিসেবে দেখিয়েছেন। এটা একটা ইউনিক এঙ্গেল।"

শিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, "নাসির আলী মামুন যে সময় ছবি তোলা শুরু করেছিলেন, সে সময় অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। তখন তো এত রসদ ছিল না, কিন্তু দরদ ছিল। নাসির আলী মামুন আমারও অনেক ছবি তুলেছেন। ছবি তোলার যে তৃষ্ণা, তা অতুলনীয়। পোট্রেট আলোকচিত্রী হিসেবে পৃথিবীতে হাতেগোনা কয়েকজনের নাম বলা যায়। নাসির আলী মামুনের এই কাজ একটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।"

শিল্পী সুলতানের জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।

নাসির আলী মামুন একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরে বলেন, "আমি যখন থাকব না। আমার এসব কাজ কোথায় থাকবে? এজন্য আমি 'ফটোজিয়াম' নামে একটা আর্কাইভ করেছি। সরকারের এগুলো করা উচিত ছিল।

"আমাদের একটা আলোকচিত্রের জাদুঘর করা উচিত। ব্যাংক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান পাশে থাকলে সেই জাদুঘর করা সম্ভব। আমি একটা নাম দিয়েছি 'ফটোজিয়াম', সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ফটোজিয়াম করতেই হবে।"

এইচএসবিসি'র প্রধান নির্বাহী মাহবুব উর রহমান বলেন, "আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনকে অনেক দিন ধরে চিনি। তার এসব আলোকচিত্রে সুলতানের জীবনকে নতুনভাবে দেখা যাবে।"

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এইচএসবিসির সহযোগিতায় এ প্রদর্শনী আয়োজন করেছে বেঙ্গল শিল্পালয়। 

প্রদর্শনী চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কামরুল হাসান প্রদর্শনশালায় প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার) প্রদর্শনী খোলা থাকবে।