ভোট দেবেন কীভাবে?
পোস্টাল ব্যালট ভোটের দিন বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে পৌঁছাতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার।
সেদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে।
এবার প্রত্যোক ভোটার পাবেন দুটি ব্যালট পেপার। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা, যাতে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে। আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি রঙের, তাতে থাকবে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’।
নির্বাচনে সারাদেশে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছে। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষ থাকছে। প্রতিটি ভোটকক্ষে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার জন্য মার্কিং প্লেস বা গোপন কক্ষ রয়েছে।
>> ভোটের আগে আপনার ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্র ও ক্রমিক নম্বর জেনে নিন।
>> ভোটার নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে ১০৫ নম্বরে কল করুন। স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমেও এসব তথ্য মিলবে।
>> ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভোটার নম্বর সঙ্গে রাখুন বা ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করতে পারেন।
>> ভোটের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
>> ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে হবে।
>> আপনার পালা এলে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোটার হিসেবে শনাক্ত করবেন।
>> ভোটারের বাম হাতে বৃদ্ধাঙ্গুলিতে অমোচনীয় কালির চিহ্ন দেওয়া হবে।
>> এবারের নির্বাচনে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে।
>> সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট পেপার ও গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপার থাকবে।
>> ব্যালট পেপারে অফিসিয়াল সিল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকবে। এরপর গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিতে হবে।
>> পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ঘরে নির্ধারিত সিল দিতে হবে।
সিল দেওয়ার পর সিলের কালি যাতে অন্য প্রতীকের ঘরে না লাগে সেভাবে ভাঁজ করতে হবে। এজন্য সিল দেওয়া প্রতীকের মাঝামাঝি ভাঁজ দিয়ে ব্যালট বাক্সে দুটি ব্যালট ফেলতে হবে।
ভোটের দিনে প্রচার
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না।
একইসঙ্গে চৌহদ্দির মধ্যে পোস্টার, লিফলেট বা যেকোনো ধরনের প্রচারপত্র থাকলে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে, যাতে কেউ প্রচার করতে না পারেন এবং ভোট দিতে উৎসাহিত বা নিরুৎসাহিত করতে না পারেন—সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থী বা তার এজেন্ট, সমর্থকদের কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। এ ধরনের কাজ করলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে ইসির।
নির্দিষ্ট সময়ে ভোট শুরু
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই বিলম্ব করা যাবে না। বিকালের দিকে ভোটারদের চাপ বাড়তে পারে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোটার তালিকা যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে এবং ভোটকক্ষে বিভাজিত তালিকা সঠিক কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। ব্যালট পেপার দেওয়ার সময় পেছনের অংশে অফিসিয়াল সিল ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সই থাকা বাধ্যতামূলক।
পোস্টাল ব্যালট
প্রথমবারের মতো প্রবাসে ও দেশে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং চালু করেছে এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
এবার প্রবাসে ও দেশের ভেতরে প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত হন।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারের পাশাপাশি দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তি নিবন্ধন সেরেছেন।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকুরে এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছাবে, তাদের ব্যালট গোনা হবে।
ফল একত্রীকরণ ও ঘোষণা
ভোটগ্রহণের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল একীকরণের কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে ইসির।
প্রার্থী ও এজেন্টদের আগেই ফল একত্রীকরণের স্থান ও সময় নোটিসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
প্রিজাইডিং অফিসারের পাঠানো সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফল বিবরণী (ফরম-১৬) এবং পোস্টাল ব্যালটের (দেশের ও বিদেশের) ফল বিবরণী (ফরম-১৬ক) একসঙ্গে যোগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফল প্রস্তুত হবে।
প্রিজাইডিং অফিসার যেসব ব্যালট পেপার বাতিল করেছেন, ফল একত্রীকরণের আগে প্রয়োজন মনে করলে তা পরীক্ষা করতে পারেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
নির্বাচনের ফল ঠিক হওয়ার পর অবশ্যই ইসি সচিবালয়ে একীভূত ফল বিবরণীসহ একটি রিটার্ন (গেজেট প্রকাশের জন্য) পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একইসঙ্গে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে হবে।
