কেন্দ্রের চৌহদ্দিতে ক্যাম্প-প্রচার মানা, ভোটার আনতে প্রার্থীর গাড়ি নয়
নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং অফিসারদের বলেছে ইসি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের চারশ’ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি ক্যাম্প করতে পারবেন না।
সেই সঙ্গে প্রার্থী বা তার এজেন্ট ভোটার আনতে কোনো যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না।
১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ ও গণভোট হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে।
ভোটকেন্দ্রের কক্ষ ব্যবস্থাপনা, ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম এবং ক্যাম্প ও প্রচারের বিধি সংক্রান্ত নির্দেশনাসহ পরিপত্র রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন-ইসি।
এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার নির্বাচন ও গণভোট দেবেন।
প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে থাকবে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষ। প্রতিটি ভোটকক্ষে দুটি করে গোপনকক্ষ থাকবে ভোটের সিল দিতে।
ভোটের দিন প্রচার ও যানবাহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না।
একইসঙ্গে চৌহদ্দির মধ্যে পোস্টার, লিফলেট বা যেকোনো ধরনের প্রচারপত্র থাকলে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে। যাতে কেউ প্রচার করতে না পারেন এবং ভোট দিতে উৎসাহিত বা নিরুৎসাহিত করতে না পারেন সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থী বা তার এজেন্ট, সমর্থকদের কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।
এ ধরনের কাজ করলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে ইসির।
সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু
ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই বিলম্ব করা যাবে না। বিকালের দিকে ভোটারদের চাপ বাড়তে পারে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা কাজ সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোটার তালিকা যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে এবং ভোটকক্ষে বিভাজিত তালিকা সঠিক কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। ব্যালট পেপার দেওয়ার সময় পেছনের অংশে অফিসিয়াল সিল ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।
ভোট কক্ষে বাড়বে ‘মার্কিং প্লেস’
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটারদের গোপনীয়তা নিশ্চিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত কক্ষ অনুযায়ী গোপন কক্ষ বা ‘মার্কিং প্লেস’ স্থাপন করা হবে। এসব গোপন কক্ষ এমন হবে যাতে ভোটদানের সময় ভোটারের পছন্দ সম্পূর্ণ গোপন থাকে এবং কোনো ব্যক্তি তা দেখতে না পারে।
জানালা বা উন্মুক্ত স্থান থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রত্যেক ভোটারকে দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এ কারণে প্রতিটি ভোটকক্ষের সঙ্গে যতদূর সম্ভব দুটি গোপন কক্ষ স্থাপন হবে।
যেখানে তা সম্ভব হবে না, সেখানে অতিরিক্ত ভোটকক্ষ স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকক্ষে একটি ব্যালট বাক্স
ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার জন্য বলেছে ইসি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা বিবেচনায় বিকল্প আলোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ছাড়া অন্য কোনো বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একটি এবং প্রতিটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত হিসেবে একটি ব্যালট বাক্স থাকবে।
কোনো ভোটকক্ষে একই সঙ্গে একাধিক ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা যাবে না।
ভোট গ্রহণকালে কোনো ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেলে সেটি পঞ্চম লক দিয়ে সিল করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে নতুন ব্যালট বাক্স স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বা নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে তা করবেন প্রিজাইডিং অফিসার।
এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং অফিসারদের বলেছে ইসি।
আগের খবর:
