Published : 31 Aug 2013, 10:46 AM
তিব্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তির পর ভারত ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে এই অঞ্চলের অন্যতম দীর্ঘ নদী ব্রহ্মপুত্র, যা চীনে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত।
তবে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলানোর জন্য কোনো চেষ্টা করা হয়নি বলে বেইজিং বরাবর দাবি করে এলেও চন্দন নন্দীর মত, সত্য গোপন করেছে চীন।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত নিজের ব্লগ ‘নন্দিগ্রাম’-এ চন্দন লিখেছেন- ২০০৫ সালের মার্চে তিন থেকে চারটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল চীন, যদিও তা ছিল কম শক্তির।
চীন ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে তীব্বতের উত্তর থেকে দক্ষিণে দেশটির মরু অঞ্চলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল বলে মনে করা হয়, যা ঘটলে বিরূপ প্রভাব পড়ত ভারত বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়।
চীনের এই গোপন প্রচেষ্টা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এই দুটি দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ উপর থেকে পানির গতি পরিবর্তন করে নিম্ন অববাহিকায় পানির সংকট দেখা দেবে।
টাইমসের হস্তগত হওয়া ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথিতে দেখা যায়, তিব্বতে মৌতৌ এবং ব্রহ্মপুত্রের বড় বাঁকের কাছে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ওই বোমাগুলির শক্তি কম ছিল এবং তার সনাক্তকরণ এড়াতে উল্লেখযোগ্য গভীরতায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিষয়টি জানার পর বেইজিংয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাইলে ব্রহ্মপুত্রের পানির গতিপথ সরাতে আনবিক বোমা বিস্ফোরণের কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করে।
চন্দন লিখেছেন, নামচা পর্বত হয়ে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রকে উত্তরের শুষ্ক অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার একটি গোপন চীনা পরিকল্পনা চীনের একাডেমি অব ইঞ্জিয়ারিং ফিজিক্সের বিশেষজ্ঞরা ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে উপস্থাপন করেন।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিজ্ঞান সাময়িকীতে চীনের পরিকল্পনার ফাঁস করা হলে তা ভারত্রে নজরে আসে। ২০০৩ সালে চীনের কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্রের পানি দক্ষিণ থেকে উত্তরে সরাতে চীন সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।

এরপর চীনে ভারতের রাষ্ট্রদূত এর বাখ্যা চাইলে বেইজিং জানায়, তারা কোনো পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়নি। সেই সঙ্গে এই পরিকল্পনা বাদ দেয়ার কথাও জানায় তারা।
তবে চীন পরিকল্পনা বাদ দেয়ার কথা বললেও চীনের দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দেখা যায়, ইয়াংজু, ডানজিং রিজারভয়ের ও তংতিয়ানে থেকে যথাক্রমে পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে তিনটি চ্যানেল দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পানি দক্ষিণ থেকে উত্তরে সরানো হবে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, দুটি বিষয় ২০০৫ সালের আণবিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে নিশ্চিত করে।
প্রথমত, ২০০৫ সালের জুন-জুলাইতে ব্রহ্মপুত্রে এক অভূতপূর্ব বন্যায় ভারতের দিকে পানির স্তর ৩০ মিটার বেড়ে যায়। কাজের সুবিধার্থে চীনা প্রকৌশলীদের পানি সরানোর প্রচেষ্টার ফলেই ওই ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়।
দ্বিতীয়ত, ২০০৮ সালের অক্টোবরে ভারতের গোয়েন্দারা জানতে পারেন ব্রহ্মপুত্রের বড় বাঁকের কাছে নিইংচি এলাকায় তিব্বতের গালুংলা পর্বত দিয়ে কাজ শুরু করেছে চীনা প্রকৌশলীরা, যা আগে সেই জায়গায় পরমাণু বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের ফলে ভারত ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদীটির প্রবাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না চীন বরাবর দাবি করে এলেও ভারত তা বিশ্বাস করছে না।
ভারতের উদ্বেগের বিষয় হলো- এতে ব্রহ্মপুত্র নদে তাদের পানির হিস্যা কমবে এবং যেকোনো সময় পানি ছেড়ে দিয়ে চীন ভারতকে জিম্মি করতে পারে।