শাহজাদপুরে আ. লীগের সংঘর্ষ, গুলি সাংবাদিকের মাথায়
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার পর সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুর রহিম (ভিপি রহিম) ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে বলে শাহজাদপুর থানার ওসি রেজাউল হক জানান।
এ ঘটনায় আহত দৈনিক সমকাল পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে।
হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. সুশান্ত কুমার সাংবাদিকদের বলেন, “আহত সাংবাদিকের মাথায় গুলি লেগেছে। ৭২ ঘণ্টার আগে তার সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
“এ অবস্থায় তাকে অন্য কোথাও পাঠানো হলে ক্ষতি হতে পারে। যে কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কোথাও পাঠানোও যাচ্ছে না।”
ভিপি রহিম বলেন, “দিলরুবা বাস টার্মিনাল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার টেন্ডার হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার সংস্কার কাজ শুরু করছে না। লোকজন নিয়ে সক্রিয় হওয়ায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজন আমার শ্যালক শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের উপর ক্ষুব্ধ ছিল।
হামলার প্রতিবাদে ভিপি রহিমের সমর্থকরা শাহজাদপুরের দিলরুবা বাস টার্মিনাল এলাকায় বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু বলেন, “আমার ছোট ভাই পিন্টু ও ভিপি রহিমের শ্যালকের মধ্যে মারামারির কিছুক্ষণ পর তার লোকজন লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়।
“এ সময় হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমিও বাড়ির ভেতর থেকে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ছাত্রলীগ নেতা বিজয়কে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের কর্মী-সমর্থক ও তার মহল্লার বাসিন্দারা লাঠিসোটা নিয়ে মনিরামপুর এলাকায় মেয়র মিরুর বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় মেয়রের সমর্থকরাও তাদের উপর পাল্টা হামলা চালায়।
একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানান তারা।
ওসি রেজাউল বলেন, আধা ঘণ্টা পর তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়।
রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ইরতিজা আহসান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনূর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, মেয়র ছাড়া ঘটনাস্থলে অন্য কেউ গুলি ছোড়েনি। যে কারণে মেয়র হালিমুল হক মিরুর লাইসেন্সকৃত শটগানটি জব্দ করা হয়েছে।”
মারপিটে আহত ছাত্রলীগ নেতার স্বজনরা থানায় একটি মামলা করেছেন।
ওই মামলায় মেয়রের ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা শাহীনূর আলম।
সংঘর্ষের পর থেকে শাহজাদপুর উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে শিমুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা মেয়রের শাস্তির দাবিতে বিকালে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
