Published : 17 Oct 2015, 08:47 PM
পাকিস্তানকে ১৭৩ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ৯৯ রান, হাতে ১৯ ওভার। কিন্তু ইংলিশদের লড়াইটা আসলে ছিল সময়ের সঙ্গে। ১৯ ওভার পুরো করার সময় তখন নিশ্চিতভাবেই ছিল না!
টেস্ট ক্রিকেট তার সব রং-রস, সৌন্দর্য আর নাটকীয়তা নিয়ে হাজির হয়েছিল শনিবার আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে। নিষ্প্রাণ চারটি দিনের পর এক লহমায় উত্তেজনার পারদ ছুঁয়েছিল চূড়া! যে ম্যাচের প্রথম চারদিনে উইকেট পড়েছিল ১৬টি, সেই ম্যাচের শেষ দিনেই পড়েছে আরও ১৬ উইকেট!
৮ উইকেটে ৫৬৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ৯ উইকেটে ৫৯৮ রানে। প্রথম ইনিংসে লিড ৭৫ রানের। তখনও সেটাকে মনে হয়নি বড় কিছু। কিন্তু প্রথম ইনিংসে অভিষেকে সবচেয়ে বাজে বোলিংয়ের রেকর্ড গড়া আদিল রশিদ দ্বিতীয় ইনিংসে হয়ে ওঠেন অসম্ভবকে প্রায় সম্ভব করার নায়ক!
শুরুটা যদিও হয়েছিল জেমস অ্যান্ডারসনের হাত ধরে। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার শান মাসুদ (১) ও প্রথম ইনিংসে দ্বিশতক করা শোয়েব মালিককে (০) ফেরান অ্যান্ডারসন। বেন স্টোকস সরাসরি থ্রোতে রান আউট করেন মোহাম্মদ হাফিজকে (৩৪)।

মিসবাহ ছিলেন তবু পাকিস্তানের ভরসা হয়ে। কিন্তু অর্ধশত করার পরপর হঠাৎই পাকিস্তান অধিনায়কের খামখেয়ালিপনা; মঈন আলিকে ডাউন দা উইকেট খেলতে গিয়ে হলেন বোল্ড (৫১)। ইংল্যান্ডের আশার পালে লাগল নতুন হাওয়া। শেষ ১৪ রানে তুলে নিল তারা পাকিস্তানের শেষ ৫ উইকেট। পাকিস্তান অলআউট ১৭৩ রানে।
প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রান দিয়েও উইকেট না পাওয়া রশিদ এবার ৬৪ রানে ৫ উইকেট! দুটি করে নিয়েছেন অ্যান্ডারসন ও মঈন।
মরিয়া চেষ্টায় মঈন আলির সঙ্গে ইংল্যান্ড ইনিংসের শুরুতে নামায় আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান জস বাটলারকে। তিনে জো রুট, চারে বেন স্টোকস। একদিকে ইংলিশরা রান করছিলেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, আরেক দিকে নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশদের কাজ কঠিন করে তুলছিলেন দুই পাক স্পিনার জুলফিকার বাবর ও মালিক।

১১ ওভার ব্যাট করতে পেরেছিল ইংল্যান্ড। ৭৪ রান তোলার পাশাপাশি তাদের হারাতে হয় ৪ উইকেট। ২৯ করে ৩৩ করে অপরাজিত রুট। দুটি করে উইকেট বাবর ও মালিকের।
২৪৫ রানের ইনিংসটির পাশে ম্যাচে ৪ উইকেট মালিকের। ৮৩৬ মিনিটে ২৬৩ রানের ম্যারাথন ইনিংসটির জন্য তবু ম্যাচ-সেরা অ্যালিস্টার কুক।
শেষ দিন সকালেও ড্র ছাড়া এই ম্যাচের অন্য কোনো ফল ভাবতে পারেননি হয়ত পৃথিবীর শেষ আশাবাদী ব্যক্তিটিও। তবে কে ভাবতে পেরেছিল, এই ড্র ম্যাচই ছড়াবে এমন রোমাঞ্চ-উত্তেজনার রেণু!
তবে ড্র ম্যাচেও অনেক সময় মিশে থাকে থাকে জয়-পরাজয়ের স্বাদ। ইংলিশরা তাই আক্ষেপ করতেই পারে জয়ের এত কাছে গিয়েও সময়ের সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে না ওঠায়। তেমনি ড্র করেও জয়ের স্বস্তি পাবে পাকিস্তান শিবিরে।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে দুবাইয়ে।