Published : 23 May 2013, 08:04 AM
বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মুসা বলেন, “খালেদ নেপালের হিমালয়ান গাইডস প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে এভারেস্টে গিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ঈশ্বরী পাউডেল জানিয়েছেন- মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে ১০ জন শেরপা প্রয়োজন।”
এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে গত ২০ মে মৃত্যু হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ খালেদ হোসেনের, যিনি সজল খালেদ নামেই পরিচিত।
২০১০ সালে এভারেস্ট জয় করা মুসা ইব্রাহীম জানান, সজল খালেদের মৃতদেহ হিমালয়ের প্রায় ২৮ হাজার ৭৫০ ফুট উচ্চতায় সাউথ সামিটে রয়েছে। সেখান থেকে মরদেহ নামিয়ে আনতে প্রায় ৫০ হাজার ডলার বা ৪১ লাখ টাকা দরকার।
এই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা গেলে সজল খালেদের মৃতদেহ ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনা সম্ভব। তারপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমাণ্ডুতে নিয়ে আসা যাবে।
“আমরা এই বীরের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই কি না- তা আজকের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তা না হলে ক্লাইম্বিং সিজনের মধ্যে তার দেহ নিচে নামিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।”

তিনি বলেন, “সজল খালেদের পরিবার জানিয়েছে ওই পরিমাণ অর্থ যোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এভারেস্ট অভিযানে সজল খালেদের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দেশ টিভি ও কর্ণফুলী লিমিটেড এগিয়ে এলে বা অন্য কোনোভাবে দ্রুত অর্থের যোগান পেলে লাশ আনা সম্ভব হতে পারে।”
তবে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার বা নেপালে বাংলাদেশ মিশন দ্রুত উদ্যোগ না নিলে খালেদের আর বাড়ি ফেরা হবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন মুসা।
বুধবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সজল খালেদের পরিবারের পক্ষ থেকেও একই ধরনের আহ্বান জানানো হয়।
তার স্ত্রী তাহমিনা খান শৈলী কান্না ভেজা কণ্ঠে বলেন, “ও যাওয়ার আগে আমার হাত ধরে বলেছে, শৈলী আমি ফিরে আসব। সে কথা রাখবে। ও ফিরে আসবে।”
সজল-শৈলীর পারিবারিক বন্ধু শ্যামা শারমিন রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সজল খালেদকে ফিরিয়ে আনার যে আশ্বাস সরকার ও অন্যরা দিয়েছেন তা যেন সত্যি হয়।
“হাতে সময় খুব কম। তাকে দ্রুত নিয়ে আসা দরকার। এরপরেআর কেউ হয়ত সেখানে যাবে না।”