Published : 21 May 2013, 12:06 PM
কোম্পানির লেনদেনে কোনো ভূমিকা ছিলো না দাবি করে হল-মার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন হাই কোর্টে জামিনের আবেদনে বলেছিলেন, কোম্পানির লেনদেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদের একক স্বাক্ষরে হতো বলে অনিয়মের দায় তার ওপর বর্তায় না।
শুনানি শেষে জেসমিনের আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দেয় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ।
তার জামিন বাতিল বিষয়ক একটি রুলের শুনানিতে খারিজের এই আদেশ হয়। ‘অকার্যকর’ হয়ে যাওয়ায় আদালত একইসঙ্গে রুলও খারিজ করে দেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এই রুল জারি হয়েছিলো। ইতোমধ্যে তার জামিন বাতিল হয়ে গেছে। এ কারণে রুলটি অকার্যকর হয়ে গেছে।
“জামিন বাতিলের রুলের শুনানিতে গতকাল (সোমবার) জেসমিন ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। আদালত এই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন।”
আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, এখন আবার নতুন করে জেসমিন ইসলাম হাই কোর্টে জামিন আবেদন করতে পারবেন।
আদালতে জেসমিন ইসলামের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ।
জামিনের আবেদনে জেসমিন বলেন, তিনি ঋণগ্রহিতা ১১ কোম্পানির চেয়ারম্যান হলেও রমনা থানায় দায়ের করা ১১ মামলার ১০টির এজাহারেই তাকে আসামি করা হয়নি।
হল-মার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবগুলো স্বামী তানভীরের একক স্বাক্ষরে পরিচালিত হতো বলে জানান তিনি।
জেসমিনের আইনজীবী বলেন, “আবেদনকারী কেবল দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। যে কোনো বিচারে তিনি একজন গৃহিণী।

অনিয়মের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার অভিযোগ ওঠার পর গত বছর ১৮ অক্টোবর মানিকগঞ্জ থেকে জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে গ্রেপ্তার হন তার স্বামী তানভীর। তাদের বিরুদ্ধে দুদক ১১টি মামলা করে।
ঋণের অর্থ ফেরত দিতে রাজি হওয়ায় এবং ছেলের এসএসসি পরীক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে জেসমিনকে ১১ মামলায় ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় দেড় মাসের জামিন দেয় বিচারিক আদালত।
এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি এক আবেদনে জেসমিন ইসলামের জামিন কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাই কোর্ট। পাশাপাশি তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
পরে ১৭ এপ্রিল ওই জামিন বাতিল করে জেসমিনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় বিচারিক আদালত। হাই কোর্ট বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে জেসমিনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেয়া হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করলে জেসমিনের জামিন বাতিল হয়ে যায়।
তখন হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান জেসমিন ইসলাম। পরে আপিল বিভাগ হাই কোর্টে রুল নিষ্পত্তির জন্য পাঠায়।