হুতি হামলা থেকে সৌদি আরবের সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এই যুদ্ধবিমান প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা রাখবে। হুতিদের বিরুদ্ধে কোনও হামলা চালাতে এগুলো ব্যবহার হবে না।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, "এই যুদ্ধবিমান প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা রাখবে। হুতিদের বিরুদ্ধে কোনও হামলা চালাতে এগুলো ব্যবহার হবে না।
“যুক্তরাজ্য তাদের আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে সৌদি আরবের শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে আকাশপথের হামলা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।”
তাছাড়া, সৌদি আরব আকাশে যুদ্ধবিমান ওড়ানোর সময় যাতে মাঝ-আকাশেই অন্য বিমান থেকে জ্বালানি নিতে পারে, সেই সামরিক সহায়তার সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির উপকূলবর্তী জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হুতিদের হামলার পর যুক্তরাজ্য সরকার এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানাল।
হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত, যে সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, তাদের বিমানবন্দরগুলোতে হুতি হামলায় ১৯ জন নিহত হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
ইয়েমেনে রাজধানী সানা-সহ নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমনি সরকার বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ নিচ্ছে হুতিরা।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমাদের বন্ধু দেশ সৌদি আরবে হুতিদের বারবার হামলা খুবই জঘন্য। বিশেষ করে রিয়াদের বিমানবন্দরে যেভাবে হামলা করা হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায়, হুতিরা এই এলাকার পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত ও খারাপ করতে যে কোনও কিছু করতে পারে।
"এ কারণেই আজ আমি (সৌদি আরবের জন্য) যুক্তরাজ্যের আরও সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছি। আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের আকাশসীমাকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক আকাশ অভিযান পরিচালনা করবে।
“হুতিদের বিমান হামলা থেকে সৌদি আরকে রক্ষা করতে সেখানে আমাদের যে ব্রিটিশ সরঞ্জাম ও জনবল ইতোমধ্যেই রয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা।”
যুক্তরাজ্যে জ্বালানির (গ্যাস/বিদ্যুৎ) দাম দিন দিন বাড়ছে। এ নিয়ে সরকার চিন্তিত। এই চিন্তার কারণেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে লন্ডন থেকে জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সাংবাদিক ক্যামিল নেদেলেক।
