পশ্চিমবঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের সময় হড়কা বানে ৮ মৃত্যু, বহু নিখোঁজ

বিজয়া দশমীর দিন রাতে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের পাশে মাল নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Oct 2022, 05:43 AM
Updated : 6 Oct 2022, 05:43 AM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার সময় হড়কা বানে ভেসে গিয়ে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

বুধবার বিজয়া দশমীর দিন রাতে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের পাশে মাল নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমধ্যম।

মৃতদের মধ্যে একটি শিশু ও চার জন নারী রয়েছে বলে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। এ ঘটনায় আহত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌমিতা গোদারা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন দিতে কয়েকশ লোক মাল নদীর তীরে জড়ো হয়েছিল।

“হঠাৎ হড়কা বান নেমে আসে আর লোকজন ভেসে যায়। এ পর্যন্ত আটটি মৃতদেহ ও প্রায় ৫০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রসাশন তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে,” বলেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, লোকজন নদীর তীব্র স্রোত ঠেলে তীরে ফেরার চেষ্টা করছেন, অনেকে ভেসে যাচ্ছেন, কেউ কেউ কিছু একটা ধরে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী ও স্থানীয় এমএলএ বুলু চিক বারাইক।

এনডিটিভিকে তিনি বলেন, “ঘটনাটি যখন ঘটে তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। বেশ কিছু লোক ভেসে যায় আর নদীর স্রোত অত্যন্ত তীব্র ছিল। এ ঘটনার সময় সেখানে শত শত লোক উপস্থিত ছিল। অনেকে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।”

তৃণমূল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ এ নেতা উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে সারারাত ও বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকাজ বন্ধ ছিল, পরে বৃষ্টি কমলে উদ্ধারকাজ আবার শুরু হয়।

এক টুইটে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যারা তাদের আপনজনকে হারিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি।

স্থানীয় কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, মাল নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে দর্শনার্থীরা নদীর মাঝামাঝি স্থানে যেতে বাধ্য হন; কিন্তু আচমকা পানি বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যয় নেমে আসে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক