২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে সিঙ্গাপুরে তেল মজুত করবে সৌদি আরব

এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর নেওয়া হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে সিঙ্গাপুরে তেল মজুত করবে সৌদি আরব

সৌদি আরবের আরামকো কোম্পানির স্থাপনায় দেখা যাচ্ছে তেলের ট্যাংক। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 10:36 PM

Updated : 26 Oct 2026, 11:23 PM

হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের পর আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরের জুরং রক কাভার্নস-এ অপরিশোধিত তেল মজুত করার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব।

সোমবার দুই দেশের জ্বালানি মন্ত্রীরা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর নেওয়া হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

এর ফলে বিভিন্ন দেশকে তাদের মজুদ করা জ্বালানি খরচ করতে বাধ্য হতে হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মজুদের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের আগে এশিয়া অঞ্চলে মোট তেল সরবরাহের দুই-তৃতীয়াংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হত।

সিঙ্গাপুরের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তান সি লেং সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে বলেন, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে জুরং রক ক্যাভার্নসে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল মজুতের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে দুই দেশ যৌথভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তান সি লেং বলেন, এই ব্যবস্থা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে। একইসঙ্গে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সিঙ্গাপুরের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবেলার সক্ষমতাও বাড়াবে।

তিনি জানান, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা সৌদি আরামকো সোমবার সিঙ্গাপুরের এনার্জি মার্কেট অথরিটি এবং জেটিসি করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতাস্মারক সই করবে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে ভিডিওবার্তায় সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আল-সৌদ বলেছেন, “সৌদি আরব যদি এশিয়ার বড় বাজারগুলোর (যেমন সিঙ্গাপুর) কাছাকাছি নিজেদের তেল বা জ্বালানি মজুত করে রাখে, তবে ক্রেতারা খুব দ্রুত ও সহজে তেল পাবে।”

এতে কোনও কারণে বাজারে তেল সংকট দেখা দিলেও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো নিরাপদে থাকবে এবং যে কোনও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।

জুরং রক ক্যাভার্নস সিঙ্গাপুরের জুরং দ্বীপে ভূগর্ভে অবস্থিত বৃহত্তম বাণিজ্যিক তরল তেল সরক্ষণাগার। ভূমি থেকে ১৫০ মিটার (৪৯২ ফুট) নিচে অবস্থিত রক ক্যাভার্নসের পাথুরে ভূগর্ভস্থ গুহাগুলো ১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ঘনমিটার বা প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তরল হাইড্রোকার্বন সংরক্ষণ করতে পারে।

বর্তমানে সৌদি আরামকো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অপরিশোধিত তেল মজুত করে। অপ্রত্যাশিতভাবে তেলের ঘাটতি দেখা দিলে এসব মজুত থেকে তেল কেনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার অগ্রাধিকার পায়।

জাপানের ওকিনাওয়ায় তেল মজুতের সক্ষমতা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়িয়ে ৮২ লাখ ব্যারেল করা হয়েছিল।

সৌদি আরামকো জাপানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের তেল, গ্যাস ও ধাতু বিষয়ক জাতীয় সংস্থা জোগমেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই সক্ষমতা বাড়ানো হয়।

তাছাড়া, ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা কোরিয়া ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সৌদি আরামকো তেল কোম্পানি।

সেই চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান বন্দরের মজুতকেন্দ্রে পাঁচ বছরের জন্য ৫৩ লাখ ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করা হবে।