ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর বাড়ল তেলের দাম
মার্কিন আলোচকরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় অংশ নেবেন, এমন আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলার ও পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শেষ করার ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে তেলের মূল্য আবার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দর ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ০৫৪০ জিএমটিতে ব্যারেল প্রতি মূল্য দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলার। একই সময় ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের ব্যারেল প্রতি মুল্য ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করে। এ প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে আমেরিকানদের পাঠানো হয়েছে বলে জানায় তারা। কিন্তু ট্রাম্প এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানান, গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি নিয়ে একটি চুক্তির জন্য ইরানিদের তাগিদের পেছনে আছে হতাশা ও মরিয়া ভাব।
তবে এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ আলোচনা হচ্ছে।
আর রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় অংশ নেবেন।
নয়া দিল্লিভিত্তিক আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবা বলেছেন, “এই প্রত্যাখ্যান একটি তাৎক্ষণিক অগ্রগতির আশা কমিয়ে দিয়েছে, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বন্ধ হয়ে যায়নি।”
এএনজেড এর বিশ্লেষকরা এক নোটে উল্লেখ করেছেন যে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যগুলো এখনও উদ্বেগের একটি বড় কারণ হয়ে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে এবং সম্ভাব্য রপ্তানি বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।”
মার্কিন ডিজেল রপ্তানির ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরবরাহের ওপর চাপ ফেলবে আর তাতে ইউরোপের মূল্য প্রভাবিত হবে বলে ধারণা এএনজেডের।
কেপলারের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, পশ্চিম এশিয়ার প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি চলতি সেপ্টেম্বরে বেড়ে দৈনিক এক কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে দাড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি বাড়ানোয় এমনটি হয়েছে।
ড্রোন হামলায় পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে তাদের রপ্তানি কার্যক্রম পারস্য উপসাগরের রাস তানুরা বন্দরে সরিয়ে নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বাড়িয়েছে।
