২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ আরও ৭ দেশ যোগ দিচ্ছে ‘ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে’

এই সাত দেশ পর্ষদে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হবে, যারা আগেই ট্রাম্পের নতুন এ উদ্যোগে অংশ নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল।

সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ আরও ৭ দেশ যোগ দিচ্ছে ‘ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে’
হোয়াইট হাউসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি। ছবি: ইপিএ

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2026, 02:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:37 PM

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানসহ ৭ দেশ। 

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ সম্মতির কথা জানায় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

এই সাত দেশ পর্ষদে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হবে, যারা আগেই ট্রাম্পের নতুন এ উদ্যোগে অংশ নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল। 

বুধবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তার পর্ষদে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন। যদিও পুতিন পরে বলেছেন, তার দেশ এখনও আমন্ত্রণটি খতিয়ে দেখছে। 

শুরুতে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার দুই বছরের যুদ্ধের অবসানে সহায়তা ও পুনর্নির্মাণ কার্যক্রম দেখভালে এমন পর্যদ বানানোর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের প্রস্তাবিত সনদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির উল্লেখই নেই। বরং এর কার্যপরিধি দেখলে মনে হবে এটি জাতিসংঘের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যেই বানানো হচ্ছে। 

তবে সৌদি আরব বলেছে, তারা এবং অন্য ছয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে সুসংহত করা, পুনর্নির্মাণ যজ্ঞে সহায়তা এবং তাদের ভাষায় ‘ন্যায্য ও টেকশই শান্তির’ পথে অগ্রসর হওয়ার যে লক্ষ্য ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ নিয়েছে তাকে সমর্থন করছে। 

সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে তার আমন্ত্রণ পুতিন গ্রহণ করেছেন।

“তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি গ্রহণ করেছেন। অনেকেই গ্রহণ করেছে,” বলেছেন তিনি। 

পুতিনও এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানান এবং বলেন, ট্রাম্পের আমন্ত্রণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পশ্চিমারা তাদের যে সম্পদ জব্দ করেছে তা থেকে ১০০ কোটি ডলার ট্রাম্পের পর্ষদে দিতে রাশিয়া প্রস্তুত। এই পর্ষদটি মূলত মধ্যপ্রাচ্য সংশ্লিষ্ট বলেও তার ধারণা। 

ট্রাম্পের নতুন এ পর্ষদে কতগুলো দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। আমন্ত্রণপ্রাপ্তদের মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাজ্যও আছে বলে জানা গেছে, তবে তারা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো ও ভিয়েতনাম এরই মধ্যে এ শান্তি পর্ষদে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

বুধবার ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপ লিও ট্রাম্পের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। 

তবে সেখানে যুক্ত হওয়া হবে কিনা তা বিবেচনা করতে পোপের সময় লাগবে, বলেছেন ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়েত্রো পারোলিন। 

অন্যদিকে স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোব বলেছেন, তিনি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন কেননা ‘এটি বিস্তৃত বিশ্ব ব্যবস্থায় বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ করছে’। 

ফাঁস হওয়া এক নথি অনুযায়ী, কেবল তিনটি রাষ্ট্র এর কাঠামোর ভেতর আসতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই বোর্ড অব পিস বা শান্তি পর্ষদের সনদ কার্যকর হয়ে যাবে। সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর, পরে তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। যারা ১০০ কোটি ডলার দেবে তারা স্থায়ী সদস্যপদ পাবে।

আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শান্তি স্থাপনের কার্যক্রম চালাতে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলে পর্ষদের সনদে ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্প এর চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করবেন; নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের নিয়োগ এবং এর অধীনে কোনো পরিষদ বানানো বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতাও তার থাকবে। 

কিছুদিন আগে হোয়াইট হাউস এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের নাম ঘোষণা করে, যাদের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পজামাতা জারেড কুশনার ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও আছেন। 

জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত নিকোলে ম্লাদেনভকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে গাজার প্রতিনিধি হিসেবে। 

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্বে এ নিয়োগ দেওয়া হল। এ পর্বে গাজা পুনর্গঠন ও নিরস্ত্রীকরণের কথা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবে শান্তি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত একটি গাজা নির্বাহী পরিষদ গঠনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। 

শনিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, গাজা নির্বাহী পরিষদে কাদেরকে রাখা হচ্ছে তা নিয়ে ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি’। 

ওই নির্বাহী পরিষদে তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিদের রাখায় তেল আবিব বেশ অস্বস্তিতে আছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। 

অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলিদের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মিশর, কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতা করেছিল। 

ট্রাম্পের 'গাজা শান্তি পর্ষদে' যোগ দিচ্ছে আরব আমিরাত, ইসরায়েলও