২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মরক্কো থেকে সাঁতরে সেউতায় ‘শত শত’ অভিবাসী, ডুবেছেন ১৫ জন

“গত কয়েক মাসে সমুদ্রে ৬০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে,” বলেছেন ভিভাস।

মরক্কো থেকে সাঁতরে সেউতায় ‘শত শত’ অভিবাসী, ডুবেছেন ১৫ জন
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে সেউতার আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2026, 01:01 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

গেল সপ্তাহে মরক্কো থেকে শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন সেউতায় প্রবেশ করেছে। ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবে গেছেন অন্তত ১৫ জন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে সেউতার আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান জুয়ান জেসুস ভিভাস স্পেন সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সেউতা সফরের কথা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী সাঁতরে কিংবা ইনফ্লেটেবল রিংসহ ভাসমান সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেউতার উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ সীমান্তঘেরা একটি প্রবেশপথ দিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছেন।

উত্তর আফ্রিকার মরক্কো উপকূলে অবস্থিত সেউতা স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। জিব্রাল্টার প্রণালির ওপারে এ এলাকা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিবিসি জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

সাঁতরে কতজন লোক সেউতায় গিয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সাঁতরে কতজন লোক সেউতায় গিয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হচ্ছে

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ওই রায়ের সুযোগ নিয়ে বিশেষ করে তরুণ নথিবিহীন অভিবাসীদের সেউতায় যেতে উৎসাহিত করছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, অভিবাসনসহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মরক্কোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশই অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে।

সেউতায় ঠিক কতজন প্রবেশ করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারণা, বৃহস্পতিবার ‘দুই থেকে তিন হাজার’ মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে। তবে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিভিল গার্ড এ সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই বলেছে, বৃহস্পতিবার ‘শত শত’ মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে। গত দুই সপ্তাহে দেড় হাজারের বেশি মানুষ সেখানে পৌঁছেছেন, যাদের অধিকাংশই মরক্কোর তরুণ।

সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান ভিভাস বলেন, গত কয়েক মাসে সমুদ্র থেকে ৬০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, সেউতা এখন মানবিক ও নিরাপত্তা—উভয় সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। সে সময় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় আট হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। ওই ঘটনা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

সেউতা ও মেলিলা উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এগুলোই আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্থল সীমান্ত।

স্পেন কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ দুই এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি, বেড়া শক্তিশালী করা এবং মরক্কোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ এখনও সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনকে সাময়িকভাবে শেনজেন অঞ্চল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সেউতার সাম্প্রতিক দৃশ্যগুলো প্রমাণ করে যে অনিয়ন্ত্রিত অবৈধ অভিবাসন ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।