মার্কিন পণ্যে ‘শুল্ক মওকুফ’ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল ভারত
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোনও শুল্ক না রেখে ভারতের বাণিজ্য করার প্রস্তাব সংক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি নাকচ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোনও শুল্ক না রেখে ভারতের বাণিজ্য করার প্রস্তাব সংক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি নাকচ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সব শুল্ক মওকুফ করে দিয়ে বাণিজ্য করার প্রস্তাব ভারত দিয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, তা অস্বীকার করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “এখনও আলোচনা চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নির্ধারিত নয়।”
এর আগে কাতারের দোহায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, “তারা (ভারত) আমাদের এমন একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে কার্যত কোনও শুল্কই রাখা হবে না।”
ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প গত এপ্রিলে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর উচ্চ শুল্কারোপ ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার পর ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেছেন, “বাণিজ্য চুক্তি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। যতক্ষণ না চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ এ নিয়ে কোনও মন্তব্য সময়ের আগেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়ার মতো হবে।”
ভারতের এই বক্তব্য ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। দোহার ওই ব্যবসায়িক বৈঠকে ট্রাম্প অ্যাপলের সিইও টিম কুককে বলেছিলেন, তিনি চান না কুক ভারতে আইফোন তৈরি করেন, কারণ তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শুল্ক নেয়।
ওই সময়ই ট্রাম্প দাবি করেন যে, ভারত একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে, যেখানে তারা কার্যত মার্কিন পণ্যে কোনও শুল্ক আরোপ করবে না।
চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন। এরপর নয়াদিল্লি একটি চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করে, যাতে ট্রাম্পের ঘোষিত ৯০ দিনের শুল্ক বিরতির মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যায়। সময়সীমা শেষ হবে ৯ জুলাই।
এ সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের পণ্যে আরোপিত শুল্ক কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। চীনা পণ্যে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৪৫ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নামছে। আর মার্কিন পণ্যে চীনের আরোপিত শুল্ক ১২৫ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াচ্ছে ১০ শতাংশে।
ভারত ইতোমধ্যেই কিছু মার্কিন পণ্যে—যেমন বার্বন হুইস্কি ও মোটরসাইকেলে শুল্ক কমিয়েছে। তবু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা কমাতে চান ট্রাম্প। এই বাণিজ্য ঘাটতির জন্য ট্রাম্প বরাবরই ভারতের উচ্চ শুল্ককে দোষারোপ করে এসেছেন।
ভারতীয় বাণিজ্য বিশ্লেষক অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, “ভারত যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করা ৯০ শতাংশ পণ্যে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে, যদি যুক্তরাষ্ট্রও সমানভাবে শুল্ক প্রত্যাহার করে। বাণিজ্য চুক্তিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।”
তবে অটো ও কৃষির মতো স্পর্শকাতর খাতে ছাড় দিতে এখনও প্রস্তুত নয় ভারত। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি একাধিক বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে হুইস্কি ও গাড়ির ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে।
ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (ইফটা)-এর সঙ্গেও দীর্ঘ ১৬ বছর পর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত। তাছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে এ বছরই উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটি।
