ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় আট হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ইসরায়েল ইরানে নজিরবিহীন শক্তি দিয়ে হামলার কথা জানিয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েল সোমবার সকাল থেকে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এই হামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে বিবিসি।
ইসরায়েলে ইরানের হামলা:
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় আট হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ইসরায়েলের একটি প্রধান জ্বালানি কোম্পানি তাদের একটি স্থাপনার কাছে ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হওয়ার খবর জানায়নি ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ।
ইরানে ইসরায়েলের হামলা:
ইরানে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘নজিরবিহীন শক্তি’ দিয়ে ইরানে হামলা চালানো হচ্ছে।
তেহরানে যেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে সেগুলোকে ‘শাসকগোষ্ঠীর প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছেন কাটজ। পূর্ণ শক্তিতে হামলা চলতে থাকবে, বলেছেন তিনি।
ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কোন কোন লক্ষ্যে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছে তার একটি তালিকা দিয়েছেন কাটজ। এর মধ্যে আছে, বাসিজ মিলিশিয়ার সদরদপ্তর। ইরান সরকার বিক্ষোভ দমনে প্রায়ই এই মিলিশিয়াকে কাজে লাগিয়ে থাকে।
এছাড়াও আছে ইরানের এভিন কারাগার। সেখানে রাজবন্দি এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠীর শক্রদেরকে আটক করে রাখা হয়। এই কারাগারেও আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। কারাগারের প্রবেশপথে বিস্ফোরণের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একথা নিশ্চিত করেছে বিবিসি ভেরিফাই।
তবে হামলার সময় কারাগারের কোনও কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এভিন কারাগার ছাড়াও নগরীর একটি ঘড়িতে আঘাত হেনেছে, যে ঘড়ি প্রতিনিয়ত ইসরায়েলের ধ্বংসের সম্ভাব্য দিনের সময় গণনা করে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা সদরদপ্তরগুলোসহ সরকার-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভবনেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।
সপ্তাহ শেষে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানি ‘শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের সামরিক নেতারা ‘চূড়ান্ত জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের জন্য জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী ইরান বন্ধ করে দিতে পারে বলেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
