০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ত্রভান্ডারে টান, মজুত বাড়াতে ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

ইউক্রেইন ও পশ্চিম এশিয়ার মিত্রদের বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ইরান অভিযানে ব্যাপকভাবে অস্ত্র ব্যবহার করায় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন পেন্টাগন।

অস্ত্রভান্ডারে টান, মজুত বাড়াতে ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের
লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 08:00 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

ইউক্রেইন ও ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে অস্ত্র ভাণ্ডারে টান পড়ায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে লকহিড মার্টিন কোম্পানির সঙ্গে ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন (৫ হাজার ৮৬০ কোটি) ডলার মূল্যমানের একটি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের দেওয়া বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত এপ্রিলে লকহিডের সঙ্গে হওয়া ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদী একটি চুক্তিকে এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে ২০২৬ থেকে ২০৩২ অর্থবছর পর্যন্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বহুবছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনা তৈরি হল।

ইউক্রেইন ও পশ্চিম এশিয়ার মিত্রদের বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ইরান অভিযানে ব্যাপকভাবে অস্ত্র ব্যবহার করায় গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভূলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পেন্টাগন।

দ্রুত গতিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে পেন্টাগনের মধ্যস্থতাকারীরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টায় চলতি বছরের শুরুতে বেশ কয়েকটি খসড়া চুক্তিও সই হয়।

একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার চেয়ে অস্ত্র উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

সরকারি চুক্তির কাজ ঠিকমতো না করে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করতে গত জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশেও স্বাক্ষর করেন তিনি।

নতুন চুক্তিগুলোকে স্বাগত জানালেও সংশ্লিষ্ট খাতের নির্বাহীরা বলছেন, যন্ত্রাংশ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগে মার্কিন কংগ্রেসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল অনুমোদন হতে হবে।

তবে পেন্টাগনের এই ধরনের অনেক সামরিক চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত ও সরবরাহের সময়সীমা এখনও আলোচনার টেবিলে রয়ে গেছে।

এর আগে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বার্ষিক উৎপাদন ৬০টি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজারে উন্নীত করতে রেথিওনের মূল প্রতিষ্ঠান আরটিএক্সের সঙ্গেও একই ধরনের সমঝোতা চুক্তি করেছিল মার্কিন প্রশাসন।

মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, এই তহবিলের সহায়তায় ২০৩০ সালের মধ্যে ‘পিএসি-৩ এমএসই’ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি আরকানসের ক্যামডেন কারখানায় কর্মসংস্থান আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে, যার ফলে সেখানকার কর্মী সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ৮৫০ জনে।

লকহিড আগে জানিয়েছিল, তারা বছরে ২ হাজার পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এছাড়া অ্যালাবামা ও আরকানসে নতুন গোলাবারুদ কেন্দ্র স্থাপনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি কারখানা আধুনিকীকরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে লকহিড।

'পিএসি-৩ এমএসই' হলো সরাসরি ধাক্কা দিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসকারী (হিট-টু-কিল) এক ধরনের ইন্টারসেপ্টর, যা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) চলতি সপ্তাহে এক প্রাক্কলনে জানিয়েছে, বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ১ হাজারের কম পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং ২৫০টির কম ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট রয়েছে।

এই দুটিই যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সামরিক অভিযানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।