কলম্বিয়ায় বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় নিহত ১৪
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
কলম্বিয়ার একটি মহাসড়কে বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দক্ষিণ কাউকা অঞ্চলের রাস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ হামলার জন্য লাতিন আমেরিকার দীর্ঘদিনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক এর ভিন্নমতাবলম্বী উপদলগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন।
যদিও প্রেসিডেন্ট ‘সর্বাত্মক শান্তি’ কৌশল নিয়েছেন, তবু ২০১৬ সালে ফার্ক ও সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
পেত্রো এক্স পোস্টে বলেন, “যারা এই হামলা চালিয়েছে... তারা সন্ত্রাসী, ফ্যাসিবাদী এবং মাদক পাচারকারী।”
তিনি এও বলেন, “আমি চাই, আমাদের সেরা সেনারা তাদের মোকাবেলা করুক।”
কাউকার স্থানীয় গভর্নর ওক্টাভিও গুজমান এক্স পোস্টে মহাসড়কের উপর উল্টে থাকা যানবাহন এবং বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট গর্তের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
গুজমান লিখেছেন, “কাউকা একা এই বর্বরতা মোকাবিলা করতে পারবে না।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে তারা কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েছিলেন।
গভর্নর জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে কাউকাতে ছোটখাটো আরও কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে; যার মধ্যে কালি শহরের সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে হামলা রয়েছে, সেখানে দুইজন আহত হন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো আর্নুলফো সানচেজ জানিয়েছেন, সেদিন সকালে কাউকা অঞ্চলে বিস্ফোরক ঠাসা একটি বাস নিয়ে হামলার চেষ্টা হয়। তবে হামলাকারীরা বিস্ফোরণ ঘটাতে ব্যর্থ হয়।
তিনি বলেন, মাদক পাচারকারী একটি চক্রের সদস্যরা ওই হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
আগামী ৩১ মে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এসব হামলা ঘটছে।
সাবেক গেরিলা যোদ্ধা পেত্রো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে একটি বিতর্কিত শান্তি কৌশল অনুসরণ করে আসছেন। তাতে মাঝে মাঝে যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং কিছু সময় তুলনামূলক কম সহিংসতা দেখা গেছে। তার মেয়াদ এ বছরের শেষেই শেষ হবে।
ফার্ক এর যেসব সদস্য ২০১৬ সালের শান্তি চুক্তি শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেত্রো সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
গতবছর জুন মাসে রাজধানী বোগোতায় একটি সমাবেশে ডানপন্থি প্রার্থী মিগেল উরিবে তুরবায়কে গুলি করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। তিনি দুই মাস পরে হাসপাতালে মারা যান।
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পেত্রোর আলোচনা কৌশলের প্রধান সমর্থক বামপন্থি সেনেটর ইভান সেপেদা বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।
