১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার আহ্বান রাশিয়ার

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনতে এবং যে কোনও বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে রাশিয়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে যাবে।”

ইরান যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার আহ্বান রাশিয়ার
ভ্লাদিমির পুতিন ও ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Mar 2026, 09:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে চলমান হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার মস্কোর পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সাংবাদিকদের বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনতে এবং যে কোনও বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে রাশিয়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।”

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “ইরান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই অবৈধ সামরিক অভিযানে ইরানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে।”

রাশিয়ার এই আহ্বান এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। 

পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং দেশটির সীমান্ত পেরিয়ে শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা শেষ করে দিতেই এই ‘তীব্রতর’ অভিযান চালানো হচ্ছে।

হামলার শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যা সংঘাতকে আরও উসকে দেয়। 

পরবর্তীতে খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে তেহরান তাদের অনমনীয় অবস্থানের জানান দেয়।

বর্তমানে এই সংঘাত লেবানন ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। 

ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। 

এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে হাজার ছাড়িয়ে গেছে।