মেকআপ ও ঘরের কাজের কারণে পুরুষদের চেয়ে বেশি সময় লাগে: জাপানের প্রধানমন্ত্রী
জাপানের পার্লামেন্ট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার প্রথাগত নিয়ম নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এক সদস্য প্রশ্ন তুললে সানায়ে তাকাইচির সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
নারী হওয়ার কারণে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করার করার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
বুধবার পার্লামেন্ট সেশনের বক্তব্যে তাকাইচি বলেন, সকালে গোসল করা, সকালের নাশতা বানানো, থালাবাসন ধোওয়া এবং মেকআপ নেওয়ার মতো ঘরের কাজের জন্য পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে তার প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয়।
তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। নারী হওয়ার কারণে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে তার প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় করা নিয়ে করা মন্তব্য জাপানে লিঙ্গভেদে ভুমিকা এবং অতিরিক্ত কর্মঘন্টা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পার্লামেন্টে তাকাইচি বলেন, "সকালে আমি গোসল করি, নাস্তা তৈরি করি। তারপর বাসন মাজি, মেকআপ করার কথা তো বলাই বাহুল্য। আমার মনে হয় আমি পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে এই কাজগুলো করতে তিন বা চার ঘণ্টা বেশি সময় ব্যয় করছি।"
নিজেকে কাজের নেশায় আসক্ত বলে বর্ণনা করে তাকাইচি এর আগে বলেছিলেন যে, তিনি রাতে মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান এবং মাঝে মাঝে রাত ৩টায় স্টাফ মিটিংয়ের আয়োজন করেন।”
জাপানের সমাজে নারী ও পূরুষদের কাজ বা দায়িত্ব খুব কড়াভাবে ভাগ করা। সেখানে রাজনীতিতে নারীদের সুযোগ বা অংশগ্রহণ খুবই কম।
যেমন, গত ফেব্রুয়ারির নিম্নকক্ষ (সংসদ) নির্বাচনে মোট ৪৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬৮ জন নারী নির্বাচিত হতে পেরেছেন।
পার্লামেন্ট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার প্রথাগত নিয়ম নিয়ে ক্ষমতাসীন কোয়ালিশনের এক সদস্য প্রশ্ন তুললে তাকাইচির সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
জাপানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকতে হয়।
এই সময়ের মধ্যে তারা হয় বিরোধী দলের সদস্যদের কঠিন ও জবাবদিহিমূলক প্রশ্নের উত্তর দেন, অথবা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সেখানে বসে থাকেন—এটি জাপানের রাজনীতিতে একটি স্বাভাবিক প্রথা।
একটি গবেষণার বরাত দিয়ে জাপান ইনোভেশন পার্টির আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিৎসা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
যেমন: জাপানের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন ৭২ দিন, যেখানে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ৫০ দিন এবং জার্মানির চ্যান্সেলর মাত্র ১৩ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিৎসা বলেন, পার্লামেন্টে আইন নিয়ে আলোচনা করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু সেই আলোচনার অজুহাতে দলীয় প্রধান বা নেতাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংসদে বসিয়ে রাখা বা আটকে রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বা বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে মেলে না।
তাকাইচি গত জুলাই মাসে এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছিলেন, তিনি কাজ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা নথিপত্র এবং সংসদীয় প্রশ্নোত্তর সম্পর্কিত কাগজপত্রের পেছনে ভোর পর্যন্ত ডুবে থাকেন।
বুধবার তিনি বলেন, “আমি মাঝরাতে স্তূপাকার এসব নথিপত্র পড়তে পছন্দই করি যেগুলো আমি বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু শান্ত মাথায় দেশের ভবিষ্যৎ বা আমার সূদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে মন দিয়ে ভাবার মতো সময় বের করা আমার জন্য কঠিন।”
সূত্র: দ্য জাপান টাইমস
