রাশিয়ার প্রমোদতরীর হরমুজ পাড়ি, আটকায়নি ইরান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রও
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল গত ফেব্রুয়ারি থেকেই কড়া বিধিনিষেধের আওতায় থাকার পরও রাশিয়ার প্রমোদতরীটি কিভাবে এ জলপথ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পেল তা স্পষ্ট নয়।
রাশিয়ার ধনকুবের আলেক্সি মর্দাশোভের মালিকানাধীন একটি সুপারইয়ট ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বাধা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে। মর্দাশোভের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র মঙ্গলবার একথা জানিয়েছেন।
দুবাইয়ে রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের ‘নর্ড’ নামের ওই বিলাসবহুল প্রমোদতরীটি গত শনিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল গত ফেব্রুয়ারি থেকেই কড়া বিধিনিষেধের আওতায় থাকার পরও রাশিয়ার প্রমোদতরীটি কিভাবে এ জলপথ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পেল তা স্পষ্ট নয়।
রুশ পতাকাবাহী এই প্রমোদতরী আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের নিয়ম মেনে অনুমোদিত রুটে চলাচল করেছে বলে জানিয়েছেন মর্দাশোভের ওই সূত্র।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এই প্রমোদতরী চলাচলে বাধা দেয়নি। কারণ, এটি ছিল বন্ধুভাবাপন্ন একটি দেশের বেসামরিক জাহাজ এবং সেটি শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা করছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও কোনো প্রশ্ন তোলেনি। কারণ, জাহাজটি ইরানের কোনও বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি এবং ইরানের সঙ্গেও এর কোনও সংযোগ ছিল না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করছে, যেগুলো মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ।
অথচ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর আগে দিনে গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ এপথে যাতায়াত করত। ইরান দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখার পর যুক্তরাষ্ট্রও এর পাল্টায় সেখানকার ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করে।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের মিত্র দেশ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পাকিস্তান ও ওমানে আলোচনা শেষে রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘এলএসইজি’ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার পর গত রোববার থেকে নর্ড প্রমোদতরীকে ওমান উপকূলের কাছে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
